মানুষের মধ্যে কারও বন্ধুর সংখ্যা বেশি, আবার কারও বন্ধুবান্ধব একেবারে হাতে গোনা। এই পার্থক্য দেখে ধারণা করা যায়, নির্দিষ্ট একজন মানুষ মিশুক, নাকি একা থাকতেই বেশি পছন্দ করে। কিন্তু মানুষের এই বৈশিষ্ট্যের নেপথ্যে মস্তিষ্কের গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এমনটাই দাবি করছেন।
সহজে মিশতে পারা নিঃসন্দেহে একটি গুণ। সবার এই গুণ থাকে না। এটি একদিনে গড়েও ওঠে না। কিছু মানুষ থাকে যারা ছোটবেলা থেকেই চটপটে স্বভাবের হয়। তারা খুব দ্রুত মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তবে এ ধরনের মানুষের কিছু অসুবিধাও থাকে।
গবেষকেরা বলছেন, মিশুক ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের প্রায় ছয়টি নির্দিষ্ট অংশের আকার তুলনামূলক বড় হয়ে থাকে। আর এসব অংশের পারস্পরিক সংযোগও তুলনামূলক শক্তিশালী। সম্ভবত এ ধরনের মস্তিষ্কধারী মানুষই অন্যদের সঙ্গে মিশতে বেশি পছন্দ করে।
সহজে মিশতে পারলে বন্ধু হতে সময় লাগে না। তখন অনেক আপনজন তৈরি হয়। যে কারণে স্বাভাবিকভাবেই আপনার প্রতি অনেক মানুষের প্রত্যাশাও তৈরি হবে। এরপর নানা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার চাপ অনুভব করবেন। কারণ একজন মানুষ খুব বেশি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না। অনেক জায়গায় যেতে হতে পারে, অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা লাগতে পারে। এগুলো আপনার কাছে চাপ হিসেবে ধরা দিবে।
যারা মিশুক হয়, তারা অন্যদের থেকে বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে থাকে। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই এ ধরনের মানুষেরা তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। এই আবেগপ্রবণতা তাদের জীবনের ব্যক্তিগত এবং পেশাদার উভয় দিককে প্রভাবিত করতে পারে।
যারা মানুষের সঙ্গে মিশতে বেশি পছন্দ করে বা সহজে মিশে যায়, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পছন্দ করে। এই নির্ভরশীলতা মানে আর্থিক নির্ভরশীলতা নয়। আসলে তারা মানসিকভাবে অন্যের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে যায়। এই নির্ভরতা তাদের আত্মসম্মানকে প্রভাবিত করতে পারে।
যারা মানুষের মধ্যে থাকতে বা মানুষের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করে, তারা একা থাকা পছন্দ করে না। এটি তাদের কাছে অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু কিছু সময় আছে যখন একা থাকার প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিতে তারা মানিয়ে নিতে পারে না। তখন তারা হতাশ ও ক্লান্ত বোধ করে। নিজের কাজ করার, ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য একা থাকার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তাদের অভ্যাস না থাকার কারণে এক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার ভয় থাকে।