আন্তর্জাতিক

মিসরে মাদক মামলায় টিভি উপস্থাপিকাসহ ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মাদক সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মিসরের টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারা খলিফাসহ ১১ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র আল-আহরাম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা একটি অপরাধী চক্রের অংশ ছিলেন। চক্রটি বিক্রির উদ্দেশ্যে মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি করার পাশাপাশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রেখেছিল।

 

৩৯ বছর বয়সী সারা খলিফা অপরাধবিষয়ক জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘মিশন ইম্পসিবল’-এর উপস্থাপক হিসেবে পরিচিত। তিনি শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

 

গত মাসে প্রাথমিকভাবে এ রায় ঘোষণা করা হলেও মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছ থেকে ধর্মীয় মতামত নেওয়ার পর তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়। মিসরের আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে গ্র্যান্ড মুফতির মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক।

 

বিচার চলাকালে আদালতকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট চক্রটির কাছ থেকে ৭৫০ কেজিরও বেশি মাদকদ্রব্য এবং তা তৈরির জন্য আমদানিকৃত কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। আল-আহরাম জানায়, এ মামলায় প্রসিকিউশনের কাছে ২০ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন কথোপকথন ও ভিডিও ফুটেজসহ বেশ কিছু ডিজিটাল প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

 

অপর এক রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদপত্র আখবার আল-ইউম জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে আদালতে শুনানিকালে বিচারক তার ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে সারা খলিফা দাবি করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে ছবি তোলার আগ পর্যন্ত তিনি কখনো কোনো মাদক দেখেননি।

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর মিসরে ৪৯২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, মাদক পাচার ও ধর্ষণের মতো অপরাধে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেওয়া হয়েছিল যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ইচ্ছাকৃত হত্যা’র আওতায় পড়ে না, যেসব ক্ষেত্রে সাধারণত মৃত্যুদণ্ড সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

সূত্র: বিবিসি

ডিবিসি/হাদী

আরও পড়ুন