আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি (এম এ জি) ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৪ সালের আজকের এই দিনে ৬৬ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ক্ষণজন্মা এই সমরনায়কের প্রয়াণ দিবসে জাতি তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার দয়ামীর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আতাউল গণি ওসমানী। খান বাহাদুর মফিজুর রহমান ও জোবেদা খাতুনের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। শৈশবে মায়ের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হলেও পরে তিনি আসামের গৌহাটির কটনস স্কুল ও সিলেট সরকারি পাইলট স্কুলে পড়াশোনা করেন।
১৯৩৪ সালে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিক পাস করে তিনি ‘প্রিটোরিয়া অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এরপর আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই.এ এবং বি.এ পাস করেন। ১৯৩৯ সালে ভূগোলে এম এ অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
ছাত্রজীবন থেকেই ওসমানী তার মেধা, ন্যায়পরায়ণতা ও নেতৃত্বের গুণের পরিচয় দেন। ১৯৪০ সালে দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে কমিশন প্রাপ্তির পর মাত্র ২৩ বছর বয়সে ১৯৪২ সালে তিনি ব্রিটিশ আর্মির সর্বকনিষ্ঠ মেজর হওয়ার নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মার রণাঙ্গনে তিনি সাহসিকতার সাথে বিশাল বাহিনীর অধিনায়কত্ব করেন।
দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৫৬ সালে কর্নেল পদে পদোন্নতি পান। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা সিয়াটো ও সেন্টোতে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
সামরিক জীবন শেষে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিবাহিনীর প্রধান হিসেবে অতুলনীয় ভূমিকা পালন করেন এবং অসামান্য রণকৌশল প্রদর্শন করেন। দেশ স্বাধীনের পর তার এই অবদান জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। ১৯৮৪ সালে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার পর তাকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার সংলগ্ন গোরস্তানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
ডিবিসি/টিবিএ