আন্তর্জাতিক, ভারত

মুম্বাইয়ে বাবার শেষকৃত্যেও বৃদ্ধাশ্রমে এলেন না শিক্ষিত ৩ সন্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যে বাবা নিজের সারা জীবনের উপার্জন ও শ্রম দিয়ে তিন মেয়েকে সুশিক্ষিত করে তুলেছিলেন, জীবনের শেষ যাত্রায় তিনি আপনজনদের কাউকে পাশে পেলেন না। আধুনিক সমাজের পারিবারিক সম্পর্কের এক নির্মম চিত্র ফুটে উঠেছে হরিয়ানার সোনিপতের একটি বৃদ্ধাশ্রমে। মূল বাড়ি মুম্বাইয়ে হলেও জীবনের শেষ দিনগুলো এই বৃদ্ধাশ্রমেই কাটছিল এক বৃদ্ধের। মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্যে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার মতো সময়টুকুও বের করতে পারলেন না তাঁর তিন শিক্ষিত কন্যা। বাবার শবদাহ তাঁরা দেখলেন স্মার্টফোনের পর্দায় ভিডিও কলের মাধ্যমে। এই ঘটনা প্রবীণদের চরম নিঃসঙ্গতা এবং পারিবারিক বন্ধনের অবক্ষয় নিয়ে গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মুম্বাইয়ের প্রাক্তন বস্ত্র ব্যবসায়ী শিবচরণ রাম রতন গুপ্ত গত প্রায় দুই বছর ধরে সোনিপতের ওই বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করছিলেন। স্ত্রী মীনার মৃত্যুর পর তিনি সেখানে একাকী জীবন কাটাচ্ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসক আনন্দ কুমার জানান, শিবচরণ বাবু আগে নিয়মিত আশ্রমের ফোন থেকে তাঁর মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেন। কিন্তু তিনি শয্যাশায়ী হওয়ার পর থেকেই মেয়েদের ফোন আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যুর প্রায় ২০ দিন আগে তাঁর স্বাস্থ্যের চরম অবনতির কথা মেয়েদের জানানো হলেও তাঁরা বাবাকে দেখতে আসেননি।

 

শিবচরণ বাবু তাঁর তিন মেয়েকেই উচ্চশিক্ষিত করেছিলেন এবং তাঁদের সাফল্যে গর্ববোধ করতেন। তাঁর বড় মেয়ে অনিতা নেপালে শিক্ষিককতা করেন, মেজ মেয়ে নিশা উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে এবং ছোট মেয়ে প্রিয়া মুম্বাইয়ে বসবাস করেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে মেয়েরা আশ্রম কর্তৃপক্ষকে জানান যে, তাঁদের যাতায়াতের বা আসার মতো সময় নেই। অগত্যা বৃদ্ধাশ্রমের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারাই শিবচরণ বাবুর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। নেপাল থেকে মেয়ে অনিতা অনলাইনে ৫,১০০ রুপি পাঠিয়ে বাবার শেষকৃত্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।

 

তবে পুরো ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিকটি সামনে আসে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন। মেয়েরা যখন ভিডিও কলের মাধ্যমে দূর থেকে বাবার শেষকৃত্য দেখছিলেন, তখন ফোনে তাঁদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এতে আর কতক্ষণ লাগবে? আমাদের তো খেতে ও স্নান করতে হবে।’ বাবার চিতা যখন জ্বলছে, তখন সন্তানদের এমন নির্বিকার মন্তব্য উপস্থিত সকলকেই চরম হতবাক করে দেয়।

 

বাবার প্রতি এই চরম উদাসীনতা এখানেই শেষ হয়নি। পরিবারটি প্রথমে বাবার চিতাভস্ম সংগ্রহ করে রাখার অনুরোধ করলেও পরে জানায় যে, তাদের সোনিপতে আসার একেবারেই সময় নেই। শেষ পর্যন্ত তাঁরা আশ্রম কর্তৃপক্ষকেই গঙ্গায় চিতাভস্ম বিসর্জনের দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন। তবে এই তীব্র বিষাদ ও অবহেলার কাহিনীর মধ্যেও একটি মানবিক দিক ছিল। মৃত্যুর পর পরিবারের সম্মতিতে শিবচরণ বাবুর চোখ দুটি দান করা হয়। আপনজনদের অবহেলায় পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও, তাঁর এই মরণোত্তর চক্ষুদান অন্য কোনো দৃষ্টিহীন মানুষের জীবনে আলো ফেরাতে সাহায্য করবে।

 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন