আন্তর্জাতিক, ভারত

মুসলিমদের জন্য কিছুই করব না: পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪০ মিনিট আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি প্রথমবার সরকার গঠনের কয়েক দিন পর দলটির নবনির্বাচিত বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারির একটি বক্তব্য অনলাইন মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে তিওয়ারিকে বলতে শোনা যায়, পশ্চিমবঙ্গের ৭৪ বছরের নির্বাচনী ইতিহাসে সম্ভবত তিনিই ওই কেন্দ্রের প্রথম বিধায়ক, যিনি একজন মুসলিমের কাছ থেকেও ভোট পাননি। ফলে যারা তাকে ভোট দিয়েছেন, শুধু তাদেরই তার ওপর অধিকার আছে। যারা ভোট দেয়নি, তাদের কাছে তিনি ভোট চাইতেও যাননি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে কাশীপুর-বেলগাছিয়া আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা অতীন ঘোষকে ১,৬৫১ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন তিওয়ারি। ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেস বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও এবার সেখানে পদ্মশিবির জয়লাভ করে। নির্বাচনের পর গত ১১ মে রিতেশ তিওয়ারির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ২০ মিনিটের একটি লাইভ ভিডিওর বক্তব্য ঘিরে এই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

বক্তব্য চলাকালে সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসের অবতারণা করে তিনি বলেন, ‘আজ বাবা ভোলেনাথের সামনে আমি শপথ করছি, আগামী পাঁচ বছরে তাদের (মুসলিমদের), জন্য আমি একটি কাজও করব না। তাদের জন্য কোনো সার্টিফিকেটও দেব না। আমি লাইভে এ কথা বলছি। কে কী বলল বা ভাবল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না ‘ 

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্লোগান ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ উল্লেখ করে তিওয়ারি বলেন, তিনি তার নেতার সঙ্গে একমত, তবে এই নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী এর সঙ্গে আরেকটি কথা যোগ করেছেন, ‘সবকা হিসাব’। এমনটাই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানের বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিওয়ারি ‘লাভ জিহাদ’ ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও ডেমোগ্রাফিক বা জনসংখ্যার বিন্যাস পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৫২ সাল থেকে রাজ্যে নির্বাচন হলেও আজকের তরুণদের শেখা উচিত কীভাবে জনমিতি বদলে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক বা লিঙ্গবৈষম্য দূর করা সম্ভব হলেও এখন মূল মনোযোগ ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তনের দিকে নেওয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিওয়ারি অভিযোগ করেন, ভালোবাসার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং প্রযুক্তির সাহায্যে ‘জিহাদিরা’ মেয়ে ও বোনদের সম্পর্কে জড়াচ্ছে। নারীদের এই বিষয়ে সচেতন করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো নারী যেন কোনো মুসলিমের ঘরে না যায়, সেটি ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণার অভিজ্ঞতা টেনে তিনি দাবি করেন, যারা তৃণমূলের পতাকা বহন করছিল, তারা পশ্চিমবঙ্গে ‘ইসলামি শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। গত পাঁচ বছরে যারা তৃণমূলের পতাকা উড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন করেছে, এখন তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বয়কট করার সময় এসেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

 

সূত্র: নিউজ 24

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন