আঞ্চলিক সংকট নিরসনে বাহ্যিক কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই ইসলামিক দেশগুলোকে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই ঐক্যই আঞ্চলিক সংকট সমাধানের মূল চাবিকাঠি।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুসলিম দেশগুলোর স্পিকার ও সমকক্ষদের পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় কালিবাফ ত্যাগ, উৎসর্গ ও আনুগত্যের এই উৎসবের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ইরানসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকের অপরাধমূলক আগ্রাসনের মুখোমুখি হচ্ছে। কালিবাফ লিখেন, এই নৃশংসতায় স্কুলশিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে ইসলামের বিপ্লবের নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনিসহ আমাদের বহুসংখ্যক দেশপ্রেমিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন।
তিনি প্রয়াত এই নেতাকে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের অগ্রদূত এবং ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের রক্ষক হিসেবে অভিহিত করেন। কালিবাফের মতে, ইমাম খামেনি ধর্মীয় নীতির ওপর ভিত্তি করে ইরানি জাতিকে সব সময় প্রতিবেশী দেশের সাথে বন্ধুত্ব, স্বাধীনতা ও মুসলিমদের সাথে ভ্রাতৃত্ব এবং নিপীড়ন ও ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে অবিচল থেকে লড়াই করার পরামর্শ দিতেন।
তিনি আরও বলেন, এই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের প্রত্যক্ষ সামরিক মোকাবিলায় ইরানের জনগণ তাদের এমন এক ভারী পরাজয় উপহার দিয়েছে, যা সমগ্র বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে।
এর আগে পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ঈদুল আজহার প্রাক্কালে মুসলিম নেতাদের সাথে ফোনালাপে তিনি মার্কিন-ইসরায়েল বিরোধী জোরালো অবস্থান নেওয়ার তাগিদ দেন।
যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের এই কৌশলগত বিজয়কে বিশ্ব মুসলিমের জন্য একটি বার্তা হিসেবে উল্লেখ করে স্পিকার কালিবাফ বলেন- মুসলিমরা যদি ইসলামের শত্রু, বিশেষ করে ইহুদিবাদী শাসন ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সহানুভূতিশীল হয়, তবে তাদের বিজয় নিশ্চিত।
তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, আমি বিশ্বাস করি, কোনো বিদেশী হস্তক্ষেপ ছাড়াই ইসলামী দেশগুলোর ক্ষমতায়নের জন্য সহযোগিতার পরিবেশ জোরদার করা আঞ্চলিক সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল