আন্তর্জাতিক

মৃত্যুর আগ মুহূর্তে কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

শুক্রবার ২৭শে মার্চ ২০২৬ ০৫:০১:২৮ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের প্রায় চার সপ্তাহ পর তার জীবনের শেষ মুহূর্তের একটি হৃদয়স্পর্শী ছবি প্রকাশ করেছে তেহরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিন এই বিশেষ ছবিটি প্রকাশ করে।


প্রকাশিত ছবিটি মূলত খামেনির কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে নেওয়া। ছবিতে দেখা যায়, মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে মাথায় কালো পাগড়ি ও ঐতিহ্যবাহী আলখাল্লা পরা আয়াতুল্লাহ খামেনি অত্যন্ত নিবিষ্ট মনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলার সময় তিনি তার কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন।


উল্লেখ্য, পরমাণু ইস্যু নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানে বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। ওই হামলায় খামেনিসহ ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট চিত্রে তার বাসভবন ও কার্যালয় সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।


এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইরান ইতোমধ্যে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করেছে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ইরান যেকোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে তাদের ভাষায় 'কঠোর প্রতিশোধ' চালিয়ে যাচ্ছে।


আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া নেতৃত্বের শূন্যতা দ্রুতই কাটিয়ে উঠেছে ইরান। হামলার এক সপ্তাহের মাথায় তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কমান্ড সরাসরি তার হাতেই রয়েছে।


এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ইসরাইল লেবাননে তাদের স্থল ও আকাশপথের অভিযান আরও জোরদার করেছে। হিজবুল্লাহর সাথে কোনো প্রকার কূটনৈতিক সমাধানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তাদের অভিযানের লক্ষ্য প্রায় পূরণ হয়েছে। তবে ইরান পাল্টা দাবি করেছে যে, যেকোনো স্থল আগ্রাসন রুখতে তাদের ১০ লক্ষাধিক সেনা প্রস্তুত রয়েছে।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন