মেক্সিকোর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধী সংগঠন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) প্রধান এবং দেশের মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’ সেনা অভিযানে নিহত হয়েছেন। মেক্সিকান বিশেষ বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে স্থানান্তরের সময় রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার জেরে মেক্সিকোর অন্তত ২০টি রাজ্যে চরম অস্থিরতা ও সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে।
দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সহিংসতায় মেক্সিকোর ন্যাশনাল গার্ডের অন্তত ২৫ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার জালিস্কো রাজ্যের তাপালপা শহরে এল মেনচোর এক সঙ্গীর সূত্র ধরে সামরিক কমান্ডোরা অভিযান চালায়। এ সময় এল মেনচোর দেহরক্ষীদের সাথে ব্যাপক গুলিবিনিময় হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তাকে আটক করে মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ অভিযানে তার অন্তত ছয়জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত এবং তিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মেক্সিকান সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড এবং বিমানবাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। তবে মেক্সিকো সরকার সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেছে, এ অভিযানে কোনো মার্কিন বাহিনী সরাসরি জড়িত ছিল না। উল্লেখ্য, এল মেনচোকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
মাদক সম্রাটের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তার কার্টেলের সদস্যরা বিভিন্ন শহরে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। নিরাপত্তা সচিব ওমর গার্সিয়া হারফুচ জানান, এ অস্থিরতায় একজন কারারক্ষী, রাজ্য প্রসিকিউটর অফিসের একজন সদস্য এবং সিজেএনজির অন্তত ৩০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। কার্টেল সদস্যরা রাস্তার মাঝে গাড়ি পুড়িয়ে, রাস্তায় পেরেক ও কাঁটা বিছিয়ে পথ অবরুদ্ধ করে রাখে এবং কয়েক ডজন ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। রবিবার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের বাড়িতে আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিলে রাস্তাঘাট পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার দেশের পশ্চিমাঞ্চলে আরও ২,৫০০ সেনা মোতায়েন করেছেন প্রতিরক্ষা সচিব রিকার্ডো ট্রেভিলা। মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতি ক্লডিয়া শেইনবাউম সেনাবাহিনীর এই অভিযানের প্রশংসা করে দেশজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সোমবার সকালের মধ্যেই রাস্তার সমস্ত অবরোধ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এএমটি