রাজধানী

মেজাজ হারিয়ে বাসের কাঁচ ভাঙলেন জাবি শিক্ষক, রক্তাক্ত চালক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাস ভাঙচুর ও চালককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম পলাশ সাহা, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এ ঘটনায় বাসের জানালার কাঁচ ভেঙে এক নারী যাত্রী ও চালক আহত হয়েছেন।

‎​বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সাভার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ডেইরি গেট এলাকায় যাত্রী নামানোর জন্য থামানো হয়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে বাসটি অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই পাশ দিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান চলে এলে তিনি হঠাৎ ব্রেক কষেন এবং মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। চালক চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত শিক্ষক তার হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে বাসের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন। এতে ভাঙা কাঁচের আঘাতে বাসচালকের মাথা কেটে রক্তপাত হয় এবং বাসে থাকা এক নারী যাত্রীর আঙুল ভেঙে যায়।

 

‎আহত চালক ও নারী যাত্রীকে তৎক্ষণাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চালককে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হলে তিনি ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। 

 

‎‎এদিকে আহত নারী যাত্রীর আঙুল ভেঙে যাওয়ায় এক্স-রে করানো সহ উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে, বাস চালকের সাথে ২ হাজার টাকায় বিষয়টি দফারফা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

 

‎আহত নারী যাত্রীর বাবা আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের বাসটি তখন থামানো ছিল। শিক্ষক নিজে গাড়ি ব্যাক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান, এতে বাসের কোনো দোষ ছিল না। তিনি পরিচয় দেওয়ার পর আমরা তাকে শান্ত হতে বলি। কিন্তু তিনি উগ্র আচরণ শুরু করেন এবং হেলমেট দিয়ে বাসের কাঁচ ভেঙে ফেলেন। এতে আমার মেয়ের মাথা ফুলে গেছে, আঙুল ভেঙে গেছে। ড্রাইভারের মাথাও ফেটে গেছে।

 

‎‎বাস চালক আতিক চৌধুরী বলেন, ‘উনি আমাকে কয়েকবার মেরেছেন। আমি কিছুই করিনি, তবু আমাকে ডেকে নিয়ে সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে আমি ভুক্তভোগী হয়েও অপরাধীর মতো দাঁড়িয়েছি। এখানে শ্রমিক হিসেবে আমাদের কোনো সুরক্ষা নেই।’

 

‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাশ সাহা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটের সামনে এক বাসচালক বাসটি রাস্তার মাঝবরাবর রেখেছিল। আমি তাকে অতিক্রম করার  সময় একটি চলন্ত পিকাপ থেকে নিজেকে সেভ করতে ব্রেক করলে আমি পরে যাই। পরে বসে উঠে আমি ড্রাইভারকে বারবার বলেছি বাস সরাতে, কিন্তু সে শোনেনি। একসময় রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। শিক্ষক হিসেবে এটা আমার করা ঠিক হয়নি। আমি আমার ভুলটা স্বীকার করছি।’

 

‎ঘটনার জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্তের বিষয়ে পরে জানানো হবে ।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন