চারদিকে ঈদের আনন্দ, উৎসবের আমেজ। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই শোকের অন্ধকারে ঢেকে গেছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার ধুলারী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম।
শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন, একটি সফরে বের হয়েছিলেন তারা। উদ্দেশ্য ছিল মেয়ে ফারহানা সুলতানা শেফার বাড়িও। জীবনে প্রথমবারের মতো ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাচ্ছিলেন মেয়ের সঙ্গে। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ পথযাত্রা।
চৌগাছা বাজার থেকে বিকাল ৫টায় মামুন পরিবহনের একটি বাসে করে রওনা দেন তারা। পথিমধ্যে লক্ষ্মীপুরে পৌঁছালে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১২ জন যাত্রী, যাদের মধ্যে ছিলেন এই দম্পতিও।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত তিনটার পর থেকেই সিরাজুল ও কোহিনুরের মোবাইল ফোনে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। উদ্বিগ্ন হয়ে স্বজনরা বিভিন্নভাবে খোঁজ নিতে থাকেন। পরে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মেয়ের জামাই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিথর দেহ শনাক্ত করেন।
যেখানে থাকার কথা ছিল মেয়ের ঘরে, সেখানে তাদের ঠাঁই হলো কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। আর নিজ গ্রামে প্রস্তুত করা হয়েছে পাশাপাশি দুটি কবর।
মেজো ভাই নুর ইসলাম জানান, ভাই আর ভাবি প্রথমবারের মতো ঈদে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিল। কিন্তু আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন, তা তো আর বদলানো যায় না। আনন্দের বদলে আমাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আগামীকাল সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ১০টায় তাদের নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
ডিবিসি/ এইচএপি