ডালাসে গত রাতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড নিজের একক দখলে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। এর মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিয়েছেন জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড। অস্ট্রিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ১৬ গোল নিয়ে রেকর্ডটির যৌথ ভাগীদার ছিলেন তাঁরা দুজন। নিজের ক্যারিয়ারের ছয় নম্বর বিশ্বকাপে এসে ২৮ ম্যাচে ১৮ গোল করে রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন মেসি। অন্যদিকে, চারটি বিশ্বকাপে ২৪ ম্যাচে ১৬ গোল করে গত ১২ বছর ধরে এই মর্যাদার রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন ক্লোসা।
রেকর্ড হারানোর পর জার্মানির সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪৮ বছর বয়সী নুরেমবার্গের বর্তমান কোচ ক্লোসা মেসিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা। অভিনন্দন চ্যাম্পিয়ন!’ ২০১৬ সালে পেশাদার ফুটবল ছেড়ে দেওয়া ক্লোসা ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে কিংবদন্তি রোনালদোর রেকর্ড ভেঙেছিলেন, যিনি আবার ২০০৬ সালে ভেঙেছিলেন গার্ড মুলারের ১৪ গোলের রেকর্ড।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে ক্লোসা মোট ১৭৯৩ মিনিট মাঠে থেকে ৬৬টি শটে ১৬টি গোল পেয়েছিলেন, যেখানে তাঁর নেওয়া শটের ২৪ শতাংশই গোলে রূপান্তরিত হয়েছিল এবং প্রতি গোলের জন্য তিনি সময় নিয়েছিলেন ১১২ মিনিট। অন্যদিকে, মেসি অস্ট্রিয়া ম্যাচ পর্যন্ত মোট ২৪৮৪ মিনিট মাঠে থেকে ১১৮টি শট নিয়ে ১৮টি গোল পেয়েছেন। ক্লোসার চেয়ে ৫২টি শট বেশি নেওয়া মেসির শট গোলে রূপান্তরের হার ১৫ শতাংশ এবং প্রতি গোলের জন্য তাঁর সময় লেগেছে ১৩৮ মিনিট। তবে ক্লোসা জার্মানির জার্সিতে নিখাদ স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেও মেসি এই বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন মূলত প্লে-মেকার হিসেবে। ক্লোসা যখন ২০০২ সালে ২৪ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন, মেসি তখন ২০০৬ সালে নিজের ১৯তম জন্মদিনে বিশ্বকাপে অভিষিক্ত হন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ন্যূনতম ১০ গোল করা ১৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে এবারের বিশ্বকাপে খেলছেন মাত্র তিনজন, লিওনেল মেসি (১৮ গোল), কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৫ গোল) এবং হ্যারি কেইন (১০ গোল)। তবে বয়স বিবেচনায় ২৭ বছর বয়সী ফরাসি তারকা এমবাপ্পেরই মেসির এই নতুন রেকর্ড ভেঙে ফেলার সুযোগ সবচেয়ে বেশি।
ডিবিসি/এফএইচআর