খেলাধুলা, ফুটবল

মেসিকে উইংয়ে নিয়ে আসাটাই ছিল আর্জেন্টিনার টার্নিং পয়েন্ট!

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাওতারো মার্তিনেজ গোল করলেও, জয়ের মূল নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন লিওনেল মেসি। গোলদাতার তালিকায় নাম না থাকলেও, পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য একাই বদলে দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে তাদের তিক্ত এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড নিজেদের পরিকল্পনামাফিক খেলে মেসিকে মাঝমাঠেই আটকে রাখতে সক্ষম হয়। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে তারা লিডও পেয়ে যায়। এরপরই কৌশলগত পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি মেসিকে মাঝমাঠ থেকে ডান প্রান্তে সরিয়ে নেন। এই একটি সিদ্ধান্তই ইংল্যান্ডের পুরো রক্ষণ-পরিকল্পনা ভেঙে দেয়। ম্যাচ শেষে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও স্বীকার করেছেন যে, মেসিকে উইংয়ে নিয়ে আসাটাই তাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল লিড ধরে রাখতে আরও ডিফেন্ডার নামিয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।

 

ইংল্যান্ড নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে যাওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেন মেসি। পরিসংখ্যান বলছে, ৫৫ থেকে ৯২ মিনিটের মধ্যে ৮৮ শতাংশ বলই ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। এর মধ্যে ৬৬ থেকে ৮৪ মিনিট, এই ১৮ মিনিটে ইংল্যান্ড মাত্র ২টি সঠিক পাস দিতে পেরেছিল, যা ছিল গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড ও সেন্টারব্যাক জন স্টোনসের নিজেদের মধ্যকার আদান-প্রদান। পুরো ম্যাচে মেসি একাই ৯টি সফল ড্রিবল করেছেন, যেখানে পুরো ইংল্যান্ড দল মিলে করেছে মাত্র ৭টি। প্রতিপক্ষের বক্সে মেসির ৭টি টাচ এবং ৪টি গোলের সুযোগ তৈরির পরিসংখ্যানও ছিল পুরো ইংলিশ দলের সমান। এছাড়া ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯টি ক্রসও তার পা থেকেই এসেছে।

 

আর্জেন্টিনার জয়ের দুটি গোলেই মেসির সরাসরি অবদান ছিল। ৮৫ মিনিটে কর্নার থেকে তার দেওয়া পাস পেয়ে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তার ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাওতারো মার্তিনেজ।

 

মেসির এই পারফরম্যান্স নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস জানান, মেসি মাঠে হেঁটে বেড়ালেও বল পায়ে আসামাত্রই জ্বলে ওঠেন এবং পার্থক্য গড়ে দেন। সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক জো হার্ট বিশ্লেষণ করে বলেন, মেক্সিকো ও নরওয়ের মতো রক্ষণভাগ আটকে রাখতে গিয়ে তারা মেসিকে স্বাধীন করে দিয়েছিলেন, যার ফলে শেষ ১৫ মিনিট তিনি একাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও অকপটে স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পরও বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড় হিসেবে মেসি বল পেয়েই নতুন কিছু তৈরি করে তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছেন।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন