বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখার কঠিন পরীক্ষায় ধাপে ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালে কাতারে শিরোপা জয়ের পর অনেকেই লিওনেল মেসির দলের সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি দেখলেও মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা নিজেদের মানসিক ও কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব আবারও প্রমাণ করেছে। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই চ্যাম্পিয়নের আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলা আর্জেন্টিনা গ্রুপ ‘জে’-তে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে। আলজেরিয়াকে ৩-০, অস্ট্রিয়াকে ২-০ এবং জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে নকআউটে ওঠে তারা। এ সময় লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লাউতারো মার্টিনেজদের বল দখলের ক্ষমতা এবং দ্রুত আক্রমণ রচনা নজর কাড়ে। তবে নকআউট পর্বে এসে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় আলবিসেলেস্তেদের। প্রথম নকআউট ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের সমতা শেষে অতিরিক্ত সময়ের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় তারা। এরপর শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে একাধিকবার পিছিয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও ইনজুরি সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের অন্যতম কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হয় স্কালোনির দল। ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর সুইস তারকা দান এনদোয়ের গোলে সমতা ফেরে। পরে অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের দূরপাল্লার শট এবং শেষ মুহূর্তে লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়। এই জয়ের পর কষ্ট সহ্য করে জয় ছিনিয়ে আনাকে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতির অংশ বলে মন্তব্য করেন কোচ স্কালোনি। এরপর সেমিফাইনালের মহারণে ইংল্যান্ডের উচ্চগতির ফুটবলের বিপরীতে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ২-১ গোলের দারুণ এক জয় দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালের টিকিট কাটে দলটি।
আর্জেন্টিনার এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে কোচ লিওনেল স্কালোনির সময়োপযোগী কৌশল এবং ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসির অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্বের বড় ভূমিকা রয়েছে। সব বাধা পেরিয়ে এখন তাদের সামনে একমাত্র লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখা। ফাইনালে ইউরোপের অপরাজিত দল স্পেনের বিপক্ষে জয় পেলে ব্রাজিল ও ইতালির পর তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা। একইসঙ্গে এটি হতে পারে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা মেসির জন্য এক অবিস্মরণীয় বিদায়ী মঞ্চ।
ডিবিসি/এফএইচআর