শুরুতেই পেনাল্টি মিসের তীব্র হতাশা। গ্যালারিতে তখন স্তব্ধতা, বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মনে ভয়ের গুঞ্জন। কিন্তু পেনাল্টি মিসের সেই ধাক্কা সামলে সাময়িক ভেঙে পড়লেও, দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। পেনাল্টি মিসের খেসারত দিলেন চোখ ধাঁধানো জোড়া গোল করে। শুধু দলকে জেতালেনই না, ভাঙলেন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও। মেসির এই জাদুকরী পারফরম্যান্সে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ তখন মাত্র ৩ মিনিট। লাউতারো মার্টিনেজ অস্ট্রিয়ার বক্সে ঢোকা মাত্রই প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার শ্লাগার ও পশের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যান। রেফারি প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি না দিলেও, পরে দীর্ঘক্ষণ ভিএআর পরীক্ষা করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটে স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন লিওনেল মেসি। গোল করলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড-এমন এক রোমাঞ্চকর মুহূর্তে সবাইকে চমকে দিয়ে বল পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে মারেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক। অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক সঠিক দিক অনুমান করতে পারলেও তাকে কোনো কষ্টই করতে হয়নি।
পেনাল্টি মিসের পর ২১ ও ৩৩ মিনিটেও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন মেসি। একবার আলাবার দারুণ ট্যাকল এবং পরের বার ফাঁকা পোস্টে শট নিলেও আলাবার অবিশ্বাস্য গোললাইন ব্লকে গোলবঞ্চিত হন তিনি।
তবে সেই আক্ষেপ ঘুচতে বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাঁ দিক থেকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের সূত্রপাত করেন মেসি নিজেই। ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে তার নেওয়া নিখুত ও মাপা শটটি পোস্টের নিচের বাঁ কোণ দিয়ে জালে জড়ায়। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল পূর্ণ করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান মেসি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে স্কালোনির শিষ্যরা। ৬৩ মিনিটে ফের্নান্দেসের জোরালো শট ব্লকড হয়। ৭৪ মিনিটে মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে গঞ্জালেসের দুর্দান্ত হেড পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৮৭ মিনিটেও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন গঞ্জালেস।
তবে ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে (৯৫ মিনিট) কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল নিয়ে দ্রুত গতিতে ছোটেন হুলিয়ান আলভারেস। তার নেওয়া শট অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে। গোললাইনে তখন বেশ কয়েকজন অজি ডিফেন্ডার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে। মেসির প্রথম প্রচেষ্টাটি সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে আসলেও, ফিরতি শটে ডিফেন্ডার দানসোকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান মেসি।
এই জোড়া গোলের সুবাদে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা, আর সেই সাথে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত হয় নকআউট পর্ব।
ডিবিসি/এসএফএল