বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

মেহেরপুরে অপারেশন থিয়েটারে রোগীর মৃত্যু: দুই চিকিৎসককে মারধর ও ক্লিনিক ভাঙচুর

মেহেরপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মেহেরপুর শহরের ‘মেহেরপুর ক্লিনিকে’ জরায়ুর অস্ত্রপচারের সময় নাছিমা খাতুন (৫৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায় এবং দুই চিকিৎসককে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। নিহত নাছিমা খাতুন গাড়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, নাছিমা খাতুন জরায়ুর অস্ত্রপচারের জন্য সন্ধ্যায় মেহেরপুর ক্লিনিকে ভর্তি হন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডা. মিজানুর রহমান ও তার ছেলে ডা. মুশফিকুর রহমান অভি তাকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেন। প্রস্তুতির কিছুক্ষণ পরই রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অপারেশন টেবিলেই তার মৃত্যু হয়।

 

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা ডা. মিজানুর রহমান ও ডা. মুশফিকুর রহমানকে মারধর শুরু করেন এবং অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রাংশসহ ক্লিনিকে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এতে দুই চিকিৎসক গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। বর্তমানে তারা মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, অজ্ঞান করার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়। তবে এ বিষয়ে তারা থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করতে রাজি হননি।

 

অন্যদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান জানান, অজ্ঞান করার (অবশ করার) ইনজেকশন দেওয়ার আগেই রোগী ভয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

 

মেহেরপুর বিএমএ-এর সভাপতি ডা. আব্দুস সালাম জানান, অস্ত্রপচারের আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি কোনো রকম তদন্ত ছাড়া চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

 

এ বিষয়ে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মেহেদি হাসান দিপু জানান, রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ডিবিসি/এনএসএফ

আরও পড়ুন