এবার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের সরবরাহ করা পাউরুটিতে ছত্রাক ও বাচ্চা থাকা ডিম ও পচা ডিম সরবরাহ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্কুল ফিডিংয়ের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুশীলন এসব নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।
জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ১৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৩৪৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহ করা হয়। খাবারের তালিকায় পাউরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট। এসব খাবার সরবরাহের কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রথমে খাবারগুলো সরবরাহে কোনো অভিযোগ না থাকলেও বর্তমানে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।
আজ বুধবার সরেজমিনে গাংনীর বাঁশবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তার প্রমান মিলেছে। সরবরাহকৃত ডিমের একটা অংশ পচা ও পাউরুটিতে ছত্রাক পাওয়া গেছে। প্রায়ই এ ধরনের খাবার সরবরাহ করা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মৌখিকভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানানোর পরও কোনো সমাধান হয়নি।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া জানান, তার কাছে সরবরাহকৃত ডিমটি পচা আর দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হচ্ছিল তাই সেটি ফেলে দেয়া হয়েছে। আবার পাউরুটিতেও ছত্রাক ছিল।
একই অভিযোগ করেন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবেল ও শাকিল। তাদের ডিমের কুসুমে ছিল পানি ও কালো আবরণে ঢাকা।
বাঁশবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রায় দিনই পচা ডিম ও নিম্নমানের কলা ও পাউরুটিতে ছত্রাক পাওয়া যায়। একাধিকবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এসব নিম্নমানের খাবারের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

স্কুল ফিডিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুশীলনের এরিয়া ম্যানেজার সুমন হোসেন ডিমের বিষয়ে যে অভিযোগ সেটি সত্য বলে স্বীকার করে বলেন, পচা ডিম পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে। তবে পাউরুটিতে ছত্রাকের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তিনি আরো বলেন, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের খাবার শিক্ষকরা রেখে দিয়ে পরে ওই খাবার সরবরাহ করে। এতে খাবারের মান কমে যেতে পারে।
মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুকুমার মৈত্র জানান, এ ব্যাপারে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডিবিসি/এইচএপি