মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে অজ্ঞাত একটি গোপন ও নিরাপদ স্থানে আত্মগোপনে রয়েছেন। কঠোর নিরাপত্তার কারণে তিনি অত্যন্ত সীমিত যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করছেন এবং বার্তা আদান-প্রদানের জন্য সম্পূর্ণ নির্ভর করছেন একটি গোপন দূত নেটওয়ার্কের ওপর। এর ফলে খামেনির সঙ্গে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা আলোচনাকে চরম ধীরগতির ও জটিল করে তুলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আহত হওয়ার পর খামেনি নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছেন এবং সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সংঘাত চলাকালে ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা এতটাই গভীরে পৌঁছেছিল যে, কয়েকজন শীর্ষ ইরানি নেতাকে অনায়াসে শনাক্ত করে হত্যা করা সম্ভব হয়। এ ধরনের আরও হামলার আশঙ্কায় বর্তমানে অনেক ইরানি কর্মকর্তা ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত বাঙ্কারে অবস্থান করছেন এবং নিজেদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সীমিত করে ফেলেছেন।
নিরাপত্তার এই কড়াকড়ির কারণে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তাও সর্বোচ্চ নেতার সঠিক অবস্থান জানেন না। খামেনির অবস্থান গোপন রাখতে বিশেষ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই কেবল তার কাছে বার্তা পাঠানো হয়। এই অস্বাভাবিক ও ধীরগতির যোগাযোগ প্রক্রিয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা আলোচনায় অনুমোদন পাওয়া ইরানি প্রতিনিধিরাও নিজ সরকারের অভ্যন্তরে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, খামেনি মূলত আলোচকদের জন্য সামগ্রিক নির্দেশনা দিয়ে কোন বিষয়ে আলোচনা করা যাবে আর কোনটি নিষিদ্ধ, তা আগেই ঠিক করে দিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কোনও প্রস্তাব বা চুক্তির খসড়া পাঠালে সেটির উত্তর আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। কারণ, বার্তাগুলো বিশেষ দূতদের হাত ঘুরে সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছায়, যার ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ঘটে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ এই যোগাযোগ বিশৃঙ্খলাকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা ‘সিটকমের মতো’ হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করেছেন। দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে না পারায় ইরানি কর্মকর্তারা রীতিমতো বিরক্ত বলে জানান তিনি। তবে খামেনির বর্তমান অবস্থান বা ইরানের এই অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
ডিবিসি/এফএইচআর