মুসলিম দেশগুলোকে, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে তাদের 'আসল শত্রু'র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মুসলমানদের মধ্যকার বিভেদ কেবল শত্রুদেরই স্বার্থ রক্ষা করে। মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত 'ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ' চলাকালে খামেনির টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়।
বার্তায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একতা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়, জেনে বা না জেনে যারা মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে, তারা মূলত ইসলামের শত্রুদেরই সাহায্য করে। মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য থাকলে ফিলিস্তিনিরা এতটা 'অসহায়' অবস্থায় পড়ত কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে ওই বার্তায়। উপসাগরীয় আরব শাসকদের প্রতি খামেনি বিশেষ প্রশ্ন রাখেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের জনগণ ও সরকারগুলো যদি 'ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ' থাকত, তবে পরিচয়হীন দুর্বৃত্তরা তাদের ভূমি ও সম্পদের দিকে নজর দেওয়ার সাহস পেত কি না।
ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যে বিমান হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল এবং ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, সেই হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। শুক্রবার ইরানি নাগরিকদের উদ্দেশে দেওয়া তার আগের একটি বিবৃতিরই প্রতিফলন ঘটেছে এবারের বার্তায়। ওই বিবৃতিতে তিনি সামাজিক সংহতি বিনষ্টকারী যেকোনো পদক্ষেপ নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছিলেন এবং জাতীয় ও জনগণের মনোবল দুর্বল করে এমন 'হতাশাজনক বক্তব্য' এড়িয়ে চলতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই উপসাগরীয় আরব রাজতন্ত্রগুলো ইরানের রাজতন্ত্রবিরোধী বাগাড়ম্বর ও আঞ্চলিক প্রভাবসহ তাদের বিপ্লবী আদর্শকে নিজেদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামোতে তেহরানের হামলার কারণে প্রতিবেশীদের সাথে এই উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে খামেনি তার বার্তায় বলেন, ইসলামি দেশগুলোর, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের শাসকদের প্রতি তার জোর ও বারবার দেওয়া পরামর্শ হলো-আসল শত্রুকে চিহ্নিত করুন, তাদের পরিকল্পনা বুঝুন এবং তা মোকাবিলা করুন।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসভিএন