ভিডিও ভাইরালে তোলপাড়

মোটরসাইকেল চালককে থাপ্পড়ের পর এবার লাঠি হাতে কালীগঞ্জ ইউএনও

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে।

ফুয়েল কার্ডের গরমিলের অজুহাতে এক মোটরসাইকেল চালককে চড় মারার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফিলিং স্টেশনে হাতে লাঠি নিয়ে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন ভিডিওটি গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলের বলে জানা গেছে। ভিডিওতে কালীগঞ্জের ভুল্যারহাট এলাকায় অবস্থিত মোজাহার ফিলিং স্টেশনে ইউএনও শামীমা আক্তার জাহানকে হাতে লাঠি নিয়ে তদারকি করতে দেখা যায়। সেখানে তার আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং সাধারণ মানুষের সাথে অপেশাদার আচরণের দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


এর আগে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে চাপারহাট বাজারের লুবানা ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে আসা নদী নামে এক গ্যারেজ কর্মচারীকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, অসুস্থ এক কলেজ শিক্ষকের ফুয়েল কার্ড নিয়ে তেল নিতে এসে ইউএনও’র হাতে লাঞ্ছিত হন ওই যুবক।


ভুক্তভোগী নদী বলেন, আমি গ্যারেজ মেকানিক। মালিকের কথায় অসুস্থ এক শিক্ষকের কার্ড ও টাকা নিয়ে তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ইউএনও কার্ড চেক করার সময় কোনো কথা না বলেই আমাকে কয়েকটি চড় মারেন। আমি কোনো অন্যায় করিনি, অথচ বিনা অপরাধে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার চড় মারার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি শুধু তার গাড়ির চাবি নিয়েছিলাম, গায়ে হাত তুলিনি। সম্ভবত তার কাছে সঠিক কার্ড ছিল না। নিয়ম না মেনে লাইনে দাঁড়ানোর কারণে চাবি নিয়ে পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার অভিভাবকরা এলে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে লাঠি হাতে ভিডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাকে ফোন করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শুধু বর্তমান কর্মস্থলেই নয়, তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলাতেও রয়েছে। কালাইয়ে দায়িত্ব পালনকালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর একটি প্রকল্পে ৫৫টি ভুয়া শিক্ষাকেন্দ্র দেখিয়ে সরকারের ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কালাইয়ে থাকাকালীন কোনো যাচাই ছাড়াই ভুয়া নথিপত্রে স্বাক্ষর করে তিনি এই বিশাল অঙ্কের টাকা লোপাটে সহায়তা করেছিলেন।


এছাড়া কালীগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারা ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দে তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি। সাধারণ মানুষের সাথে লাঠি হাতে এমন আচরণ জেলাজুড়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাশেদুল হক প্রধান জানান, ইউএনও’র আচরণ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন