আন্তর্জাতিক, ভারত

মোদিকে ঘিরে হট্টগোল, ভারতের সংসদে তুলকালাম কাণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভারতের লোকসভায় নজিরবিহীন হট্টগোল ও বিরোধী সংসদ সদস্যদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে ভাষণ দিতে পারেননি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ‘ধন্যবাদ প্রস্তাব’ এর জবাবি ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু বিরোধীদের তীব্র বাধায় শেষ পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন স্পিকার।

বুধবার সকাল থেকেই লোকসভার পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। দফায় দফায় অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর বিকেল ৫টায় ফের অধিবেশন শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অধিবেশন শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বিরোধী দলের কয়েকজন নারী সংসদ সদস্য নজিরবিহীনভাবে ট্রেজারি বেঞ্চের (ক্ষমতাসীন দলের আসন) সামনে অবস্থান নেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত আসনটি ঘিরে ফেলেন। হট্টগোলের কারণে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাতিল করা হয়েছে এবং ‘ধন্যবাদ প্রস্তাব’ গৃহীত ছাড়াই দিনের মতো অধিবেশন শেষ করা হয়।

 

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন বিরোধী দলীয় নারী সংসদ সদস্যরা, যাদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেসের বর্ষা গায়কোয়াড় ও জ্যোতিমণি। তারা ‘সঠিক কাজ করো’ (Do the Right Thing) লেখা বড় ব্যানার হাতে প্রধানমন্ত্রীর আসনের সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা সন্ধ্যা রায় অধিবেশন সাময়িক মুলতবি ঘোষণা করেন। পরে মন্ত্রীদের অনুরোধে নারী সংসদ সদস্যরা অবরোধ তুলে নেন।

 

এ হট্টগোলের সূত্রপাত হয় মূলত তিনটি কারণে: 

১. সাবেক সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে উদ্ধৃতি দিতে চাইলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে বিরোধীরা সকাল থেকেই সরব ছিলেন। 

 

২.মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলীয় আটজন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রতিবাদে বিরোধীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। 

 

৩. দুপুরে অধিবেশন চলাকালে ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়।

 

 এ ঘটনাকে ‘ভীতিকর’ ও ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে অভিহিত করেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। বিজেপি নেতা মনোজ তিওয়ারি বলেন, বিরোধী নারী সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা বা আক্রমণের উদ্দেশ্যেই হট্টগোল করেছেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ভীতিকর এবং এটি কংগ্রেসের চরম হতাশার বহিঃপ্রকাশ। মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

 

হট্টগোলের কারণে সারাদিনে একাধিকবার অধিবেশন মুলতবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন