মৌলভীবাজারের তিনটি উপজেলায় পৃথক ঘটনায় একদিনেই চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (১৩ মে) জেলার বড়লেখা, শ্রীমঙ্গল ও সদর উপজেলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছেন। পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
বড়লেখা উপজেলায় একই দিনে পৃথক দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার পাথারিয়া চা বাগান থেকে ময়না গঞ্জু (৩৬) নামে এক গৃহবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ময়না কুলাউড়ার সুকিন্দর গঞ্জুর স্ত্রী।পারিবারিক কলহ ও প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, একই উপজেলার বড়লেখা পৌর শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় লিটন মিয়া (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। লিটন উপজেলার তেলিগুল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় ঘাতক কাভার্ড ভ্যানটি জব্দসহ চালক ও আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মাহমুদ নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার হাইল হাওরের রাজাপুর এলাকা থেকে বুধবার রাতে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মাহমুদ সিরাজনগর এলাকার আসকর আলীর ছেলে। সকালে তিনি মাছ ধরতে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর স্থানীয়রা হাওরে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
এদিকে মৌলভীবাজার জেলা শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শুক্লা সেন (২৪) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। শুক্লা মৌলভীবাজার আধুনিক চক্ষু হাসপাতালের রিসিপসনিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।
কর্মস্থলের সুবাদে তিনি ওই এলাকায় একা থাকতেন। দীর্ঘ সময় কক্ষের দরজা বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীরা সন্দেহ পোষণ করেন এবং ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ডিবিসি/টিবিএ