মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মুজিব আলীর মরদেহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চাতলাপুর চেকপোস্টে ভারতীয় পুলিশ-বিএসএফের উপস্থিতিতে মরদেহটি বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় উভয় দেশের পুলিশ, বিজিবি, বিএসএফ সদস্য এবং নিহতের পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে দত্তগ্রাম সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন মুজিব। তিনি দত্তগ্রাম এলাকার মৃত অজিবুর আলীর ছেলে। নিহতের পরিবারের দাবি, মুজিব মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পরে সন্ধ্যার দিকে তারা জানতে পারেন, বিএসএফের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় ভিন্ন তথ্য দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ৬-৭ জনের একটি বাংলাদেশি চোরাকারবারী দল ভারতীয় চোরাকারবারীদের সহযোগিতায় চোরাচালানি মালামাল আনার উদ্দেশ্যে সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে লখাইরচর এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় লাঠিয়াপুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ২ থেকে ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে মুজিব আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অন্যরা বাংলাদেশে ফিরে এসে আত্মগোপনে চলে যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত মুজিব আলী পূর্বেও চোরাচালানি মালামাল পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফ নিহত মুজিবের মরদেহ হস্তান্তর করেছে। লাশ গ্রহণের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি নিহতের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ডিবিসি/পিআরএএন