চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মাঠের উত্তাপকে ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এক গুরুতর খবর। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের (স্পট-ফিক্সিং) অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আইভরি কোস্টের তারকা ফুটবলার এলি ওয়াহি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে।
তদন্তকারী সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফরাসি ক্লাব নিস-এর হয়ে খেলার সময় গত ১৭ মে মেটজের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ইচ্ছাকৃতভাবে হলুদ কার্ড দেখার অভিযোগ রয়েছে ২৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের বিরুদ্ধে।
গত ১৫ মে আইভরি কোস্টের বিশ্বকাপ দলে ডাক পান ওয়াহি। এর চার দিন পর মেটজের বিপক্ষে ফরাসি লিগ ওয়ানের ম্যাচে খেলতে নামেন তিনি। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে মেটজের ডিফেন্ডার সাদিবাউ সানের ওপর একটি লেট ট্যাকল করার জন্য রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান।
অভিযোগ উঠেছে, ওয়াহি যেন ওই ম্যাচে হলুদ কার্ড পান, তার ওপর অস্বাভাবিক মাত্রায় বাজি ধরা হয়েছিল। জুয়াড়িদের এই সন্দেহজনক প্যাটার্ন ফরাসি ঘরোয়া ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এলএফপি-এর নজরে আসলে তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। ফরাসি লিগে এটি ছিল ওয়াহির মৌসুমের পঞ্চম হলুদ কার্ড, যার ফলে নিসের পরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি নিষিদ্ধ হন।
গত ২৯ মে রেলিগেশন প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে সেন্ট-এতিয়েনের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলে জোড়া গোল করেন এবং ম্যাচসেরা হন ওয়াহি। এই জয়ের ফলে নিসের শীর্ষ লিগে টিকে থাকা নিশ্চিত হয়। কিন্তু ম্যাচ শেষের পরপরই ফরাসি পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তার করেন।
মার্সেই পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমরা নিশ্চিত করছি যে, গত ২৯ মে ফরাসি লিগ ওয়ানের এক ২৩ বছর বয়সী ফুটবলারকে সংগঠিত জালিয়াতি, ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশ হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে।
গ্রেপ্তার এবং মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর ওয়াহি আইভরি কোস্ট দলের সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলতে উত্তর আমেরিকায় চলে আসেন। গত রবিবার ফিলাডেলফিয়াতে ইকুয়েডরের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের ১-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটিতে তিনি মূল একাদশে ছিলেন এবং ৫৫ মিনিট খেলেন।
আগামী শনিবার টরন্টোতে জার্মানির মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্ট। তবে আইনি জটিলতার কারণে ওয়াহির কানাডায় প্রবেশ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে যুক্তরাজ্যের ধর্ষণের অভিযোগে ঘানার তারকা থমাস পার্টেকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এই বিষয়ে ফিফা, আইভরি কোস্ট ফুটবল ফেডারেশন বা ওয়াহির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলএফপি জানিয়েছে, পুলিশি তদন্তের গোপনীয়তার স্বার্থে তারা এখনই কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তবে তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস
ডিবিসি/এসএফএল