ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা নগরী। খুনিদের গ্রেপ্তারে শিক্ষার্থীদের দেওয়া আল্টিমেটাম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কড়া হুঁশিয়ারির পর শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা পর্যন্ত জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটামের মুখে শনিবার দুপুরে আসামিদের শনাক্ত করতে পুলিশের ১০টি পৃথক টিম একযোগে অভিযানে নামে এবং ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শাওন ও তার বন্ধু রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গেলে ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন। এ সময় ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় রিয়াদ প্রাণে বাঁচতে পারলেও নিখোঁজ হন শাওন। নিখোঁজের দুদিন পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জয়নুল আবেদিন উদ্যান সংলগ্ন নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে।
শনিবার দুপুর ২টায় আনন্দ মোহন কলেজ মাঠে নিহত শাওনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কয়েকশ ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন। এ সময় তারা প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শনিবার রাত ৮টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন। এর আগে শুক্রবার রাতে শাওনের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে, একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে টাউন হল মোড়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শাওনের জানাজায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বলেন, শহরে চুরি ও ছিনতাইয়ের উপদ্রব যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে পুলিশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বিশাল বিন, বিপুল বিন, রাজ বিন, হৃদয়, দেবরাজ বিন ও মুন্না বিন। তাদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানাধীন চর জেলখানা এলাকার বিনপাড়ায়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের শনাক্ত করে ইতিমধ্যেই ৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি ও জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ডিবিসি/পিআরএএন