যশোরের অভয়নগর উপজেলার ফুলেরগাতি গ্রামে এক পরিবারের তিন সদস্য মিলে প্রায় ৫ বছর ধরে লালন-পালন করছেন ‘ঠান্ডা ভোলা’ নামের ৪৫ মণ ওজনের বিশাল আকৃতির একটি গরু। ফ্রিজিয়ান জাতের এ গরুর মালিক ঝর্ণা রায়। আদর করে গরুর নাম রেখেছেন ‘ঠান্ডা ভোলা’। তিনি জানান, গরুটি ঠান্ডা প্রকৃতির হওয়ায় এই নাম রাখা হয়েছে।
জরাজীর্ণ গোয়ালঘরে বিশাল আকৃতির এই গরুটি লালন-পালন করছেন ঝর্ণা রায়। তার স্বামী লক্ষণ রায় বলেন, ঠান্ডা ভোলাকে নিজেদের মেশিনে ভুট্টা, গম, বুটের ডাল, খৈল ও ভূষি একত্রে মিশিয়ে গুঁড়ো করে খাওয়ানো হয়। দিনে দানাদার খাবার দুইবার এবং শুকনা খড় ও কাঁচা ঘাস দেওয়া হয় তিনবার।
প্রতিদিন এই গরুর পেছনে খরচ হয় ৮০০- থেকে ৯০০ টাকা । বাপ-বেটা মিলে যে টাকা আয় হয়, তার বেশিরভাগ টাকা এই গরুর পেছনে খরচ হয়ে যায়। দিনে একবার গোসল করানো হয় তাকে। মাঝেমধ্যে গরুটি রেগে গেলে মাথায় পানি দিলে ঠান্ডা হয়ে যায় ।
ঝর্ণা রায় জানান, কালো বর্ণের এই গরুটি এবারের কোরবানির ঈদে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ৪৫ মণ ওজনের এই গরুটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
খামারি ঝর্ণা রায় বলেন, আমাদের গোয়াল ঘর ভালো না। আকাশে মেঘ হলে গরুর পাশে বসে থাকি। একে যা বলি তাই শোনে। দাঁত দেখাতে বললে দাঁত দেখায়। তাই গরুটির প্রতি অনেক মায়া হয়ে গেছে।
এদিকে ঠান্ডা স্বভাবের বিশাল আকৃতির এই গরুটিকে একনজর দেখার জন্য ওই বাড়িতে প্রায়ই বহু মানুষ ভিড় করছে বলেও জানিয়েছেন এই খামারি।