বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

যশোরে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পালিত হয়নি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

যশোর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সারাদেশে পালিত হচ্ছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষা শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আজ দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিধান রয়েছে। তবে যশোরের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নিয়ম অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলনই করা হয়নি, আবার কোথাও পতাকা ছাড়াই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল প্রতিষ্ঠান।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জাতীয় শোকের এই দিনেও সরকারি নির্দেশনার কোনো প্রতিফলন নেই বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

 

বিশেষ করে শহরতলীর খোলাডাঙ্গা কর্মজীবী সংস্থা শিশু শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৩৫নং খোলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১২৬নং কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা অর্ধনমিত রাখার নিয়ম মানা হয়নি।

 

এ বিষয়ে খোলাডাঙ্গা কর্মজীবী সংস্থা শিশু শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর জাহান বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন।

 

তবে ২৩৫নং খোলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদ হোসেন মনা দাবি করেন, স্কুল খোলা হয়েছিল কিন্তু তারা চলে আসার সময় পতাকা নামিয়ে এসেছেন। প্রতিবেদন না করার জন্য তিনি এ সময় অনুরোধও জানান।

 

অন্যদিকে, ১২৬নং কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমেনা কবীর খান পতাকা না থাকার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তারা স্কুল থেকে আসার সময়ও পতাকা উড্ডয়ন অবস্থায় ছিল। তবে পরবর্তীতে তিনিও তার স্বামীর মাধ্যমে ফোন করিয়ে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।

 

জাতীয় পতাকা বিধিমালানুসারে, ২১শে ফেব্রুয়ারির মতো শোকের দিনে পতাকা উত্তোলনের সঠিক নিয়ম হলো- সূর্যোদয়ের পর প্রথমে পতাকাটি দণ্ডের শীর্ষভাগ পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে নামিয়ে দণ্ডের মাঝামাঝি বা অর্ধনমিত অবস্থায় বাঁধতে হবে। সূর্যাস্তের আগে পতাকাটি পুনরায় শীর্ষে তুলে তারপর পুরোপুরি নামিয়ে নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় এই নূন্যতম নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

এ বিষয়ে সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুন্সী মোহাম্মদ সোহেল রানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে মিটিংয়ে আছেন এবং এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত কথা বলবেন।

 

শহিদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই পতাকার প্রতি এমন উদাসীনতাকে জাতীয় অবমাননা হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও ভাষা দিবসের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার কারিগররাই যদি এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেন, তবে তা জাতির জন্য লজ্জাজনক।

 

ডিবিসি/ এইচএপি  

আরও পড়ুন