যশোরের কেশবপুরে প্রতি মৌসুমে কাঠের গুঁড়ার ধোঁয়া দিয়ে পাকানো হচ্ছে এক কোটিরও বেশি বেল। সম্পূর্ণ দেশীয় ও সনাতন কায়দায় আগুনের তাপে এসব কাঁচা বেল পরিপক্ক করে খাওয়ার উপযোগী করা হয়, যা পরে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। উপজেলার গৌরীঘোনা এলাকায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই অভিনব পদ্ধতিতে বেল পাকানোর কাজ চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গৌরীঘোনা গ্রামের ব্যবসায়ী অহিদ গাজী ও আমজাদ আলী এই প্রক্রিয়ায় বেল প্রক্রিয়াজাত করছেন। তারাই এলাকায় প্রথম গাছ থেকে কাঁচা বেল পেড়ে কাঠের ধোঁয়ায় পাকানোর পদ্ধতি চালু করেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য মাটির তৈরি বড় চুলার মতো গর্ত করা হয়েছে। সেখানে ১০টি চুলার প্রতিটিতে আনুমানিক ২০ হাজার পিস করে কাঁচা বেল স্তূপ আকারে সাজানো হয়। এরপর বেলের ওপর গাছের পাতা ও চট দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দেওয়া হয়। চুলার ভেতর মাটির পাত্র বা মালশায় কাঠের গুঁড়া দিয়ে আগুন ধরিয়ে ধোঁয়া সৃষ্টি করা হয়। প্রতিটি চুলায় দুটি করে মালশা ব্যবহার করা হয়। এই ধোঁয়ার তাপে ৮ থেকে ১০ দিন রাখার পরই কাঁচা বেল পেকে খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কেশবপুরসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার গাছ থেকে কাঁচা বেল সংগ্রহ করে এখানে আনা হয়। তাদের দাবি, এই পদ্ধতিতে কোনো রাসায়নিক বা ফরমালিন ব্যবহার করা হয় না। শুধুমাত্র কাঠের ধোঁয়ার তাপ ও প্রাকৃতিক নিয়মেই বেল পাকানো হয়। এতে বেলের রঙ উজ্জ্বল ও সুন্দর হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, ধোঁয়ায় পাকানো এই বেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এখান থেকে প্রক্রিয়াজাত করা এসব বেল পাইকারি দরে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
ডিবিসি/পিআরএএন