যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগটি দায়ের করেন শহরের মৃত মুন্সী আব্দুল আলীমের ছেলে শরিফুল আলম। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অভিযোগ দায়েরের পরপরই আদালতের সামনের রাস্তা থেকে বাদীকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পূর্বের একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানা গেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগটি দায়ের করেন শরিফুল আলম। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন অভিযোগটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস।
অন্যদিকে, বাদী শরিফুল আলমকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর জানান, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ তাকে আটক করেছে।
জানা গেছে, আইনবহির্ভূত বিভিন্ন আদেশ, আইনজীবীদের সাথে অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি গত ৪ মার্চ থেকে উক্ত বিচারকের আদালত বর্জনের কর্মসূচি পালন করে আসছে। এর ফলে আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতেই বিচারক রাশেদুর রহমান আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। গত ৩০ মার্চ বাদী শরিফুল আলমের একটি বিচারাধীন মামলায় আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে তিনি নিজেই সশরীরে হাজির হয়ে সময়ের আবেদন জমা দেন। কিন্তু বিচারক সেই আবেদন নামঞ্জুর করে একতরফাভাবে বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং বিবাদীর অনুপস্থিতি উল্লেখ করে সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেন।
বাদীর অভিযোগ, বিচারক রাশেদুর রহমান তার বিচারাধীন অনেক মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন। এর আগে একই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। যার ফলে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
ডিবিসি/এএমটি