যশোরের বেনাপোলে কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালে হাই-মাস্ট লাইট পোস্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসাথে অসংখ্য পাখির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে ইয়ার্ড এলাকার একটি ল্যাম্পপোস্টের নিচের বিদ্যুৎ সংযোগ বক্সের তালা খুললে তার ভেতর প্রায় ৩০টি মৃত পাখি পাওয়া যায়। বেশ কিছুদিন ধরেই হাই-মাস্ট লাইটের আশেপাশে দু-একটি মৃত পাখি পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছিল, তবে বিষয়টি প্রথমে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। শনিবার সকালে সংযোগ বক্সের ভেতরে একসাথে এতগুলো মৃত পাখি পাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, মৃত পাখিগুলো ‘আবাবিল’ প্রজাতির হতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে তীব্র আলো ও শীতের কারণে পাখিগুলো উষ্ণতার খোঁজে হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের ফাঁকা অংশে আশ্রয় নেয়। কিন্তু লাইট পোস্টের বিদ্যুৎ সংযোগ খোলা এবং অপর্যাপ্তভাবে রক্ষিত থাকায় পাখিগুলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। বন্দরের প্রায় প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টেই একই অরক্ষিত অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, এই মৃত্যু নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি স্পষ্টতই প্রকৌশলগত বা ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটির ফল। নিয়ম অনুযায়ী হাই-মাস্ট লাইটে বিদ্যুৎ লাইনের জন্য সুরক্ষিত কাভার, যথাযথ ইনসুলেশন ও বন্যপ্রাণী-নিরাপদ নকশা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে এসব নিয়ম মানা হয়নি বলেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্যে উদাসীনতা প্রকাশ পায়। বিষয়টি তার কাছে গুরুত্বহীন মনে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি কয়েকদিন আগে শুনেছেন এবং আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় চিঠি দেবেন।
ডিবিসি/এনএসএফ