যশোরের মণিরামপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আপন শ্যালিকাকে (১৭) দীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম রাফসান জানি (৩৪)। তিনি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী নিজে বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় মামলাটি করেন। অভিযুক্ত রাফসান জানি ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সম্প্রতি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা এবং রংপুরের একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ২০২০ সালের শেষের দিকে তাঁর মেজো বোন অন্তঃসত্ত্বা হলে তাঁকে দেখভালের জন্য ভগ্নিপতি রাফসান জানি যশোর শহরের উপশহর এলাকার ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন।
বাদীর অভিযোগ, বাসায় পড়ানোর ছলে রাফসান তাঁকে নিয়মিত কুপ্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি বোনকে জানালেও সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরবর্তীতে বোন চাকরিতে যোগ দিলে বাসায় একা পেয়ে রাফসান তাঁকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে তাঁর প্রতি দুর্বল করে তোলেন।
ভুক্তভোগী জানান, রাফসান তাঁকে যশোরের একটি হোস্টেলে পাঠিয়ে দেন এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে যেতেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মণিরামপুর শহরের মোহনপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁরা 'স্বামী-স্ত্রী' পরিচয়ে তিন মাস অবস্থান করেন। সে সময় ধর্ষণের পাশাপাশি রাফসান মোবাইলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত মাসে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই রাফসান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। বর্তমানে ওই ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে ওই কলেজছাত্রী প্রথমে হাতীবান্ধায় জিডি এবং পরে মণিরামপুরে মামলা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. রাফসান জানির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি 'পারিবারিক সমস্যা'র কথা বলে কলটি কেটে দেন।মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল জানান, ডা. রাফসান গত শনিবার থেকে ছুটিতে রয়েছেন। মামলার বিষয়টি তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানেন না।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন, "চিকিৎসক রাফসান জানির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর শ্যালিকা মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।" এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতে তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিবিসি/কেএলডি