খ্রিস্টান ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিও-কে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পোপের প্রতি সংহতি জানিয়ে পেজেশকিয়ান এই ঘটনাকে বিশ্বশান্তির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানি প্রেসিডেন্ট লেখেন, "মহামান্য পোপ চতুর্দশ লিও, ইরানের মহান জাতির পক্ষ থেকে আপনার প্রতি করা এই অবমাননার আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের নবী যিশু খ্রিস্টের (ঈসা আ.) অবমাননা কোনো স্বাধীন মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহর দরবারে আমি আপনার মর্যাদা ও সাফল্য কামনা করি।"
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে পোপ লিও মন্তব্য করেছিলেন যে, মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের নেপথ্যে এক ধরনের সর্বশক্তিমান হওয়ার বিভ্রম কাজ করছে। পোপের এই মন্তব্যের পরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়ায় পোপকে দুর্বল আখ্যা দিয়ে লেখেন, "পোপ লিও অপরাধ দমনে অত্যন্ত দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভয়াবহ। আমি এমন কোনো পোপকে সমর্থন করি না যিনি মনে করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা স্বাভাবিক বিষয়।"
পোপকে আক্রমণের পর ট্রাম্প নিজের একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তাকে যিশু খ্রিস্টের মতো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প বাইবেলের আমলের পোশাক পরে একজন অসুস্থ ব্যক্তির গায়ে হাত রাখছেন এবং তার আঙুল থেকে পবিত্র আলো নির্গত হচ্ছে। ছবির চারদিকে সেনা সদস্য, নার্স ও সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধাবনত অবস্থায় দেখা যায় এবং আকাশে আমেরিকার পতাকার সাথে ঈগল উড়তে দেখা যায়।
ট্রাম্পের এই আচরণের পর ইতালির রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি পোপের শান্তি মিশনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে দেশটির প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী এলি শ্লেইন ট্রাম্পের এই আক্রমণকে অত্যন্ত গুরুতর ও আপত্তিকর বলে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্মীয় নেতার প্রতি ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আক্রমণ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
ডিবিসি/ এসএফএল