অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করতে এবং করদাতাদের ওপর চাপ কমাতে যুক্তরাজ্যে নতুন নিয়ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৯ জুন) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করার আগে তাদের আবাসন ও মৌলিক জীবনযাত্রার সহায়তা বাবদ রাষ্ট্রকে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড ( প্রায় ১৬ লাখ ৩২ হাজার) পরিশোধ করতে হতে পারে।
ব্রিটিশ রাজনীতিতে অভিবাসন একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ইস্যু। ভোটারদের জনমত জরিপে এটি বারবার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। লেবার পার্টি তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির মাধ্যমে রিফর্ম ইউকে পার্টির প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা করছে, যারা প্রায় ৬ লাখ আশ্রয়প্রার্থীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘আশ্রয় সহায়তা পাওয়া যেমন অধিকার, তেমনি এটি একটি দায়িত্ব। যারা সামর্থ্যবান, তারা ব্রিটিশ জনগণের আতিথেয়তার প্রতিদান দেবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেবল আর্থিকভাবে সক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকেই এই অর্থ নেওয়া হবে। সরকার জানিয়েছে, কাউকে যেন চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে না দেওয়া হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষাকবচ রাখা হবে। এছাড়া শিশুদের এই নিয়মের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে এবং নিয়মটি অতীতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর কার্যকর হবে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সহায়তা বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৬৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা)। অস্থায়ী আবাসনে মাথাপিছু প্রতিদিন ব্যয় গড়ে ২৩.২৫ পাউন্ড (প্রায় ৩,৭৯৬ টাকা) এবং হোটেলে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ১৪৪ পাউন্ড (প্রায় ২৩,৫১২ টাকা) খরচ হয়, যার সাথে সাপ্তাহিক জীবনযাত্রার ভাতার খরচ যুক্ত থাকে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/আরএসএল