যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় একজন ট্রেন চালক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৮৯ জন। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর এবং ২২ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। বাকি ৫৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গত দুই দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যের রেল ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বড় এবং সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের গুরুতর আহত হওয়ার দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের দুটি ট্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে। এর মধ্যে একটি ছিল করবি থেকে সেন্ট প্যানক্রাসগামী বিকেল ৪ টা ৪০ মিনিটের ট্রেন এবং অন্যটি নটিংহাম থেকে লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাসগামী বিকেল ৩ টা ৫০ মিনিটের ট্রেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনগুলোর একটি ছিল নতুন প্রযুক্তির অরোরা মডেলের, যা গত বছরই রেলবহরে যুক্ত হয়েছিল। A421 এবং A6 সড়কের মধ্যবর্তী এলস্টো ইন্টারচেঞ্জের ঠিক দক্ষিণে এই সংঘর্ষের পর পুলিশ সেখানে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘোষণা করে। রাতভর জরুরি পরিষেবা কর্মীরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে গুরুতর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আরএমটি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এডি ডেম্পসি জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি একজন অভিজ্ঞ চালক এবং আরএমটি-র প্রাক্তন প্রতিনিধি ছিলেন। এই শতাব্দীতে ব্রিটেনের কোনো প্রধান রেলপথে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে এটিই প্রথম প্রাণঘাতী সংঘর্ষ। এর আগে ২০২৪ সালে পাউইসের ট্যালারডিগে এবং ২০২১ সালে সলিসবারির কাছে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও এবারের দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি ও আহতের সংখ্যা বিগত সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ট্রেনের সামনের কামরার এক যাত্রী ডক্টর পিটার ন্যাপ বলেন, কোনো ব্রেক বা চাকার তীব্র ঘর্ষণের শব্দ কিংবা অ্যালার্ম বাজেনি। হঠাৎ করেই একটা বিকট ধাক্কা লাগে। মনে হয়েছিল যেন বোমা ফেটেছে। চারদিকে প্রচুর ধোঁয়া আর মেঝেতে মানুষ ছিটকে পড়ে থাকতে দেখেছি। অনেকেই কাঁদছিলেন আর চিৎকার করছিলেন।
পায়ে চোট পাওয়া এই যাত্রী কোনোমতে দরজা খুলে মাঠের মাঝখানে ট্রেন থেকে বের হতে সক্ষম হন। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
তিনি সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, বেডফোর্ডের কাছে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষের খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিহত চালকের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করার জন্য আমি জরুরি পরিষেবাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ।
একই সাথে পরিবহন সচিব হাইডি আলেকজান্ডার এবং স্থানীয় এমপি মোহাম্মদ ইয়াসিন এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
রেল দুর্ঘটনা তদন্ত শাখা জানিয়েছে, কেন একটি ট্রেন লাইনে থেমে ছিল এবং অন্যটি কেন থামতে ব্যর্থ হলো, তা খতিয়ে দেখতে পরিদর্শকদের একটি দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর কেন এই আধুনিক লাইনে এমন ক্র্যাশ ঘটলো, তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। দুর্ঘটনার পর থেকে লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাস রুটে ইস্ট মিডল্যান্ডসের সমস্ত রেল পরিষেবা বাকি সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/ এমএনকে