ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বৈরী ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান এই মার্কিন আগ্রাসন মোকাবিলায় জনগণের অদম্য শক্তির ওপর নির্ভর করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার (৭ মার্চ) তেহরানে এক বক্তব্যে লারিজানি এসব কথা বলেন। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি শাসনের সাথে যোগসাজশে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলার প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য এলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে লারিজানি বলেন, ওয়াশিংটনের বর্তমান আচরণ তাদের কৌশলগত অচলাবস্থারই বহিঃপ্রকাশ। ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট স্লোগান এখন কার্যত ইসরায়েল ফার্স্ট-এ পরিণত হয়েছে। লারিজানির মতে, ট্রাম্প ইসরায়েলের ফাঁদে পড়ে নিজের দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছেন এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের মাধ্যমে নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছেন।
ইরানের সরকারি, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন হামলার কথা উল্লেখ করে লারিজানি একে যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা ও উন্মত্ততা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করা এবং শাসনব্যবস্থা পতনের যে প্রজেক্ট তারা হাতে নিয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে। খালি ভবনে হামলা চালানো তাদের সেই পরাজয়জনিত ক্ষোভেরই প্রমাণ।”
তিনি আরও জানান, চরম অর্থনৈতিক চাপ এবং বোমাবর্ষণের মধ্যেও জনগণের সহনশীলতা ও রাষ্ট্রের সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে দেশ কোনো বড় ধরনের সংকটে পড়েনি। বিশেষ করে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে সরকার ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে।
ইরানের এই নিরাপত্তা প্রধান দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে আমেরিকার কর্তৃত্ব ধসে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেওয়ার সক্ষমতা রাখে না। ট্রাম্পের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই ওয়াশিংটন আজ এই পরিণতির মুখোমুখি।
বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনির শাহাদাতের পর ইরানের নেতৃত্বের প্রক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেন লারিজানি। তিনি বলেন, “ইরানের জনগণ তাদের পরিচয় ও স্বাধীনতা নিয়ে কখনোই কোনো বিশ্বাসঘাতক শত্রুর সাথে আপস করবে না। ট্রাম্প ভেবেছিলেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন, কিন্তু কোটি কোটি মানুষের শোকমিছিল ও সংহতি সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে।”
বক্তব্যের শেষাংশে লারিজানি ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল আজারবাইজানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে ইরানের দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তেহরানের নীতি হলো প্রতিবেশীদের সাথে গঠনমূলক সম্পর্ক রাখা, তবে কোনো দেশের মাটি যদি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তবে তা সহ্য করা হবে না।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল