কোনো দেশই ইরানকে আক্রমণ করার দুঃসাহস দেখাবে না এবং তেমন কোনো চেষ্টা করা হলেও তা কোনো ফলাফল বয়ে আনবে না বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের অন্তর্বর্তীকালীন জুমার খতিব আয়াতুল্লাহ আহমদ খাতামি।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তেহরানে জুমার নামাজের খুতবা দেওয়ার সময় তিনি সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে কড়া বার্তা দেন। আয়াতুল্লাহ খাতামি বলেন, বর্তমান বিশ্বের নেতাদের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো এত বড় মিথ্যাবাদী আর কেউ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প হাজার হাজার মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন এবং তার যেকোনো পদক্ষেপের প্রতি চরম হতাশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত।
ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদের ভূমিকার প্রশংসা করে এই জ্যেষ্ঠ আলেম বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য এবং অতিরিক্ত দাবি লক্ষ্য করার সাথে সাথেই আমাদের প্রতিনিধিরা আলোচনার টেবিল ত্যাগ করে সঠিক কাজ করেছেন।" তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের ময়দানে যা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, এখন আলোচনার টেবিলে ছলে-বলে তা হাসিল করতে চাইছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারের হত্যাকাণ্ডের পর ইরানজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও ৪০ দিনব্যাপী ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
ইরানের এই শক্ত প্রতিরোধ যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত করতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান ১০ দফার একটি প্রস্তাবনা পেশ করে, যার মধ্যে ছিল-অঞ্চল থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার, ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা নিবিড় আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই ইরানি প্রতিনিধি দল তেহরানে ফিরে আসে। ইরানের দাবি, মার্কিন প্রশাসনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অবিশ্বস্ততার কারণেই আলোচনা সফল হয়নি।
খুতবার শেষাংশে আয়াতুল্লাহ খাতামি মরহুম নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শত্রুর হাসিতে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিকে তিনি "মিথ্যাচারের প্রতিমূর্তি" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, "ইরানের জনগণ অপমানজনক কোনো শর্তে বা অবমাননাকর পরিবেশে কোনো ধরনের আলোচনা গ্রহণ করবে না। এই ইসলামী বিপ্লব টিকে থাকবে এবং কোনো বহিঃশক্তি আমাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।"
সূত্র: তাসনিম নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল