যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশ দুটিকে 'ভয়াবহ পরিণতির' হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই কড়া বার্তা প্রদান করেন।
বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই বৃহৎ পরিসরের সামরিক মহড়া কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন যেকোনো পেশিশক্তির প্রদর্শন অকল্পনীয় ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। একইসঙ্গে শত্রুপক্ষকে তাদের ধৈর্য, ইচ্ছা এবং সক্ষমতার পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের বার্ষিক বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়া 'ফ্রিডম শিল্ড' শুরু করেছে। ১১ দিনব্যাপী চলমান এই বৃহৎ মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার সেনাসদস্য অংশগ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বছরের তুলনায় এবার মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ মহড়ার সংখ্যা কমিয়েছে মিত্র দেশ দুটি। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলের শাসনামলে গত বছর মাঠ পর্যায়ে ৫১টি মহড়া অনুষ্ঠিত হলেও, এবার তা কমিয়ে ২২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের ওপর 'আক্রমণের মহড়া' হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। এই কৌশলগত হুমকি মোকাবিলার জবাবে কিম ইয়ো জং উত্তর কোরিয়ার 'অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধ শক্তি' আরও জোরদার করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সবসময়ই 'অস্পৃশ্য' থাকবে এবং এর সুরক্ষায় তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু
ডিবিসি/এফএইচআর