যুক্তরাষ্ট্রকে গভীর সংশয় ও সন্দেহের চোখে দেখলেও ওয়াশিংটনের সাথে সদ্বিশ্বাস বা ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে ইরান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরানের ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা বার্তা বিনিময় হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘায়ি।
বুধবার (২০ মে) রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসমাঈল বাঘায়ি জানান, ইরান মার্কিন পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত হাতে পেয়েছে এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, এই মতামত ও বার্তা বিনিময়ের প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করতেই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবস্থান করছেন।
মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পর্যায়ে ইরানের একমাত্র লক্ষ্য হলো লেবাননসহ সব কটি ফ্রন্টে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটানো। ইরানের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দাবিগুলো পরিষ্কার ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করা, সামুদ্রিক জলদস্যুতা সংক্রান্ত জটিলতার অবসান এবং ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা বন্ধ করা। এই বিষয়গুলো শুরু থেকেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বাঘায়ি আলোচনার টেবিলে ইরানের পূর্ণ আন্তরিকতা ও সদ্বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এখন মার্কিন পক্ষকেই তাদের আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হবে। তবে গত দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত নেতিবাচক ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে তেহরান গভীর অবিশ্বাস ও সন্দেহের আবহেই এই আলোচনা চালাচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের চোখ খোলা রয়েছে এবং সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ সজাগ ও সতর্ক। কারণ, প্রতিপক্ষের ওপর সামান্যতম বিশ্বাস বা সদ্বিশ্বাস রাখার কোনো সুযোগ আমাদের নেই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে কোনো আলটিমেটাম বা সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার দাবিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেন বাঘায়ি। তিনি স্পষ্ট জানান, এ ধরনের হুমকিমূলক আচরণ বা চাপ উপেক্ষা করেই ইরান নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে।
উল্লেখ্য, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন ও যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত সোমবার (১৮ মে) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব জমা দেয় তেহরান। এর আগে ওয়াশিংটনের পাঠানো একটি বার্তার জবাবে এই আত্মবিশ্বাস গঠনমূলক প্রস্তাবটি পাঠানো হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বর্তমান আলোচনা শুধুমাত্র আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে; পরমাণু কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয়গুলো পরবর্তীতে আলোচনা করা হতে পারে।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল