অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি দূরপাল্লার ফ্লাইটে এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়ানোর অভিযোগে এক যাত্রীকে কান্তাস এয়ারলাইনস ভবিষ্যতে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যাত্রীর এমন উশৃঙ্খল আচরণের কারণে ফ্লাইটটি মাঝপথে তাহিতিতে অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুর আড়াইটায় মেলবোর্ন থেকে ডালাসের উদ্দেশে রওনা দেয় কান্তাসের কিউএফ২১ ফ্লাইটটি। উড্ডয়নের সাত ঘণ্টা পর ওই যাত্রীর আচরণের কারণে ফ্লাইটটি তাহিতির পাপেটে-তে অবতরণ করতে বাধ্য হয়। কান্তাসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলার শিকার ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে সাহায্য করতে অন্য যাত্রী এবং ক্রুরা এগিয়ে আসেন।
ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার রাজধানী পাপেটে-তে পৌঁছানোর পর কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীকে নামিয়ে নেয়। কান্তাস তাকে 'নো-ফ্লাই' নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার ফলে তিনি ভবিষ্যতে কান্তাস এবং জেটস্টারের কোনো ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে পারবেন না। প্রায় ৩৫ মিনিট পর বিমানটিতে জ্বালানি ভরে ফ্লাইটটি ডালাসের উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা শুরু করে এবং শনিবার সকালে গন্তব্যে পৌঁছায়।
কান্তাসের মুখপাত্র বলেন, আমাদের গ্রাহক এবং ক্রুদের নিরাপত্তাই আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার। ফ্লাইটে উশৃঙ্খল বা হুমকিমূলক আচরণের ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলি।
কমেডিয়ান মাইক গোল্ডস্টেইনের সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা একটি ফুটেজে দেখা যায়, কেবিন ক্রুদের সাথে এক ব্যক্তি উত্তপ্ত তর্কে জড়িয়েছেন। তাকে বিমানের পেছনের দিকে যেতে বলা হলে তিনি বারবার ক্রুদের গালিগালাজ করছিলেন (ফাক অফ বলছিলেন)। বিমানের আইলে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ব্যক্তি টলছিলেন এবং জড়ানো কণ্ঠে কথা বলছিলেন। তিনি এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে জানান যে তিনি সিগারেট খেতে বাইরে যেতে চেয়েছিলেন। তবে ওই ফুটেজে ক্রুকে কামড়ানোর দৃশ্যটি দেখা যায়নি।
গত মাসে ক্যানবেরা থেকে পার্থ যাওয়ার পথে ১৬ এপ্রিলে উশৃঙ্খল ও আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে কুইনবেয়ানের ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মাঝপথে নিবৃত্ত করা হয়। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বিমানের এক কেবিন ম্যানেজারকে লাথি মারেন এবং তাকে থামাতে আসা অন্য এক যাত্রীর হাত কামড়ে ধরার চেষ্টা করেন। তার বিরুদ্ধে বিমানের ক্রু সদস্যকে লাঞ্ছিত করাসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড।
এর আগে গত জানুয়ারিতে ক্যানবেরার এক নারী পার্থগামী ফ্লাইটে উড্ডয়নের সময় অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং এক কেবিন ক্রুকে লাঞ্ছিত করেন। ফেব্রুয়ারিতে ব্রিসবেন থেকে মেলবোর্নগামী একটি ফ্লাইটে একটি ভ্যাপ ডিভাইস থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার কারণে অবতরণের পর ফায়ার সার্ভিস ডাকতে হয়েছিল। এছাড়া গত বছর সিডনিগামী একটি ফ্লাইটের মাঝপথে দরজা খোলার চেষ্টার অভিযোগে জর্ডানের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাকে নিবৃত্ত করার সময় তিনি এয়ারলাইনসের এক কর্মীকে লাঞ্ছিত করেন। তবে গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়া জানতে পেরেছে, কান্তাস ফ্লাইটের ওই অভিযুক্ত যাত্রী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক নন।
সূত্র: গার্ডিয়ান
ডিবিসি/কেএলডি