আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বোঝা ছাড়িয়ে গেল ৪০ লাখ কোটি ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ গত এক দশকে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জো বাইডেন উভয় প্রশাসনের আমলেই ভারী সরকারি ব্যয়ের কারণে এই ঋণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৬ সালে মার্কিন জাতীয় ঋণ ছিল প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) পূর্ববর্তী প্রাক্কলন অনুযায়ী ঋণ এই সীমায় পৌঁছানোর কথা ছিল আরও পরে, যা সরকারের দ্রুতগতির ঋণ নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

এই ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা সামাল দিতে গিয়ে মার্কিন অর্থনীতিতে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের উচ্চহারে ঋণ নেওয়ার ফলে বাজারে সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের বিপুল বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা বন্ড মার্কেটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বা ইয়েল্ড বিগত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫.৩৪ শতাংশে পৌঁছায়। 

 

দীর্ঘমেয়াদি এই উচ্চ সুদের হার সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বন্ড বাইব্যাক অপারেশন দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে সুদের হার কিছুটা কমে ৫.১৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিশাল অংকের এই ঋণের বিপরীতে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী স্বস্তি আনতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

 

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১২৫.৮ শতাংশে, যা বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয়। 

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে।

 

সূত্র: বিবিসি

 

ডিবিসি/এমএনকে

 

আরও পড়ুন