ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার প্রাক্কালে ইরানি জনগণের মধ্যে গভীর সংশয় ও অবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ওয়ার্ল্ড স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক জোহরা খারাজমি। পাকিস্তানি নেতৃত্ব এই আলোচনাকে 'হয় এসপার নয় ওসপার' হিসেবে বর্ণনা করলেও সাধারণ ইরানিরা এর ফলাফল নিয়ে মোটেও আশাবাদী নন।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক খারাজমি বলেন, “ইরানিরা আসলে আশাবাদী হতে পারছে না কারণ সেখানে কোনো আস্থার জায়গা নেই। তারা মনে করে না যে কোনো ধরনের আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আদৌ নির্ভরযোগ্য।”
অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা খারাজমি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী আলোচনাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র মূলত তাদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড আড়াল করার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে রাজি হয়েও পরবর্তীতে তা আবর্জনার ঝুড়িতে নিক্ষেপ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এমন স্ববিরোধী অবস্থানই তেহরানের অবিশ্বাসের মূল কারণ।
এই সংশয়ের মাঝেও অধ্যাপক খারাজমি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, “ইরানিরা জানে ট্রাম্প বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে কতটা মরিয়া হয়ে আছেন।”
আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক দাবি আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গটি সরাসরি উত্থাপন করেন খারাজমি। তিনি বলেন, “ইসরায়েলের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ প্রয়োগ করা সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইসরায়েল সব সময় এই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির যেকোনো সুযোগ নষ্ট করতে চায়।
এদিকে ইরানের অর্থনৈতিক দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া, ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক বা টোল আরোপ। অধ্যাপক খারাজমি এই দাবিগুলোকে অত্যন্ত যৌক্তিক ও সুচিন্তিত বলে অভিহিত করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা গেলে ইরানের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করে দেশটি পুনরায় বৈশ্বিক অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত হতে পারবে।
খারাজমি আরও যোগ করেন, হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আদায়ের বিষয়টি কেবল ইরানের জন্য নয়, বরং গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার একটি পথ খুলে দেবে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/এসএফএল