ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আসা তিক্ত বার্তার মুখে ইরানি জনগণ কখনোই শক্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই বার্তা এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে হামলা চালানো হবে।
ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিতীয় দফার কোনো আলোচনার পরিকল্পনা বর্তমানে তাদের নেই। গত ১১-১২ এপ্রিল পাকিস্তানে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। ইরানের দাবি, ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত চাহিদা এবং ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণেই সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার পোস্টে জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো অর্থপূর্ণ সংলাপের মূল ভিত্তি হলো নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। তিনি লিখেন, “যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের প্রতি ইরানের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অবিশ্বাস এখনো বিদ্যমান। মার্কিন কর্মকর্তাদের অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী সংকেতগুলো মূলত একটি তিক্ত বার্তাই বহন করে-তারা ইরানের আত্মসমর্পণ চায়। কিন্তু ইরানিরা চাপের মুখে মাথানত করে না।”
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ব্যাপারে মোটেও আন্তরিক নয়। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার কোনো বৈঠকে বসার পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ, ওয়াশিংটনের অযৌক্তিক দাবি এবং আলোচনার টেবিলে তাদের বারবার অবস্থান পরিবর্তনই মূলত সংলাপের অগ্রগতিতে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই সুর মিলিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনকে তাদের অতিরিক্ত আবদার ত্যাগ করতে হবে এবং ইরানের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে, এছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল