আন্তর্জাতিক, এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খোলার উদ্যোগ নিচ্ছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewsTwitter NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে গাজা ও মিশরের মধ্যবর্তী রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে ফেরার পরপরই এই ক্রসিং উভয় দিক (প্রবেশ ও নির্গমন) থেকে খুলে দেওয়া হতে পারে।

বুধবার (৩১শে ডিসেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘কান ১১’ এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্পের চাপের ফলেই এই প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তটি নেওয়া হচ্ছে। গাজাবাসীর জন্য রাফাহ ক্রসিং ছিল বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগের একমাত্র পথ। 

 

তবে ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী ক্রসিংটির ফিলিস্তিনি অংশ দখল করে নেয় এবং এর ভবনগুলো ধ্বংস করে দেয়। এতে ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যায় এবং বিশেষ করে রোগীদের জন্য তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়। দীর্ঘ ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্তে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং ফিলাডেলফি করিডোর জুড়ে সেনা মোতায়েন করে, যারা এখনও সেখানে অবস্থান করছে।

 

অক্টোবরে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ২০-দফা পরিকল্পনায় গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং রাফাহ ক্রসিং উভয় দিকে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে ইসরায়েল এতদিন সহায়তায় বাধা দিয়ে আসছিল। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি সামরিক ইউনিট ঘোষণা করেছিল যে, রাফাহ ক্রসিং কেবল গাজা থেকে বাসিন্দাদের মিশরে যাওয়ার (নির্গমন) জন্য খোলা হবে। 

 

এই ঘোষণায় মিশর, কাতার, সৌদি আরবসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে যৌথ বিবৃতি দেয়।

 

‘কান নিউজ’-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের বৈঠকের আগেই ক্রসিংটি উভয় দিকে খোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু পদক্ষেপটি স্থগিত করা হয়। এক অজ্ঞাত মার্কিন সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ক্রসিং খোলার ঘোষণা আসতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্র সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে "বীর" হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে ইসরায়েল তার শান্তি পরিকল্পনা "শতভাগ মেনে চলেছে"।

 

তবে গত সপ্তাহের কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, নেতানিয়াহু ২০-দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘ধীরগতি’ দেখাচ্ছেন, যা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী হামাসের বিরুদ্ধে পুনরায় সংঘাত শুরুর সুযোগ হাতে রাখতেই এমনটা করছেন।

 

সূত্র: আল জাজিরা

 

ডিবিসি/এনএসএফ

আরও পড়ুন