আগামী ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন বড় ধরণের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইরান তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ফিফা যদি এই দাবি মেনে না নেয়, তবে ইরান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ইরান বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার কথা এবং তাদের সবগুলো ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে (লস অ্যাঞ্জেস ও সিয়াটল) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে তেহরান।
ইরানি ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী এই বিষয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলেই কেবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। তবে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের সূচি নির্ধারিত ড্র অনুযায়ীই হবে এবং কোনো ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে বলেন, ‘ম্যাচগুলো যেখানে হওয়ার কথা, সেখানেই হবে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে স্বাগত জানালেও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, তাদের নিজেদের জীবন নিরাপত্তার খাতিরে সেখানে (যুক্তরাষ্ট্র) থাকাটা তিনি যথাযথ মনে করেন না। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানি ফুটবল প্রধান মেহেদী তাজ। তিনি বলেন, যখন খোদ ট্রাম্পই নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারছেন না, তখন তারা নিশ্চিতভাবেই আমেরিকায় যাবেন না।
এতসব অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইরান তাদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন, খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরান সরকার। ফিফা এবং আয়োজক দেশ যদি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্বকাপে ইরানের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
ডিবিসি/এফএইচআর