মিনেসোটায় ইমিগ্রেশন অভিযানের সময় আটক হওয়া পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু ও তার বাবাকে টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেওয়া এই রায়ে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ ফ্রেড বিয়ারি লিয়াম কোনেজো রামোস নামের ওই শিশুর আটকাদেশকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোর সমালোচনা করে একে ‘অবাধ ক্ষমতার প্রতি অদম্য লালসা’ এবং ‘নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মিনিয়াপোলিসের এক শহরতলিতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস (ICE) কর্মকর্তারা যখন নীল রঙের খরগোশের টুপি ও স্পাইডারম্যানের ব্যাকপ্যাক পরা শিশু লিয়ামকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তোলা সেই ছবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিচারক বিয়ারি তার রায়ে উল্লেখ করেন, এই মামলাটির উৎপত্তি সরকারের একটি ভুল ও অদক্ষ পরিকল্পনার মাধ্যমে দৈনিক ডিপোর্টেশন বা নির্বাসনের কোটা পূরণ করার প্রচেষ্টা থেকে, যেখানে শিশুদের মানসিকভাবে আঘাত দেওয়াকেও তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের জটিল অভিবাসন ব্যবস্থার কারণে আবেদনকারীরা হয়তো শেষ পর্যন্ত তাদের দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবেন, তবে সেই প্রক্রিয়াটি বর্তমান ব্যবস্থার চেয়ে আরও সুশৃঙ্খল ও মানবিক হওয়া উচিত।
বিচারক তার রায়ে নির্দিষ্ট কোনো ডিপোর্টেশন কোটার কথা উল্লেখ না করলেও, প্রতিদিন ৩,০০০ অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ ফর পলিসি স্টিফেন মিলার এর আগেই জানিয়েছিলেন। মিনেসোটাতে চলমান এই অভিযানটি ফেডারেল কর্মকর্তাদের মতে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অপারেশন, যেখানে প্রায় ৩,০০০ এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। এই অভিযানের ফলে অধিকারকর্মী ও ইমিগ্রেশন অফিসারদের মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে এবং ফেডারেল এজেন্টদের হাতে দুইজন আমেরিকান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
কলম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের তথ্যমতে, এই মাসে শহরতলিতে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হওয়া অন্তত চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে লিয়াম অন্যতম। স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট জেনা স্টেনভিক জানান, ২০ জানুয়ারি আইস এজেন্টরা শিশুটিকে তার পরিবারের বাড়ির সামনে একটি চালু গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে আসে এবং তাকে বাড়ির দরজায় কড়া নাড়তে বলে। স্টেনভিকের মতে, পরিবারের অন্য সদস্যদের বের করে আনার জন্য শিশুটিকে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, অন্য অফিসাররা যখন শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করছিল, তখন তার নিরাপত্তার স্বার্থেই একজন আইস অফিসার তার সাথে ছিলেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিনেসোটাতে আইসের এই কৌশলের জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য এই ধরনের গ্রেপ্তার বেদনাদায়ক হলেও, কেবল বাবা-মা হওয়ার কারণে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, কোনেজো আরিয়াস ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইকুয়েডর থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে পরিবারের আইনজীবীর দাবি, তাদের একটি সক্রিয় আশ্রয়ের আবেদন (asylum claim) রয়েছে, যার ফলে তারা আইনিভাবেই দেশে থাকার অধিকার রাখেন।
আটকের পর শিশুটি ও তার বাবাকে টেক্সাসের ডিলিতে একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল।
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এফএইচআর