যুক্তরাষ্ট্রের অসংলগ্ন আচরণ ও পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে পাকিস্তানে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে ইরান এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আইআরআইবি-র নিউজ নেটওয়ার্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই পরোক্ষ আলোচনার কথা থাকলেও, ইসমাইল বাঘাই জানান, আমেরিকানদের অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ ও দ্বিমুখী বার্তার কারণে তারা এখনও এই বিষয়ে মনস্থির করতে পারেননি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর দুই দেশ বর্তমানে পাকিস্তানে আলোচনায় বসার কথা ছিল। উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামীকাল বুধবার শেষ হতে যাচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তবে তিনি এর মেয়াদ বাড়াবেন না। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধে জড়াতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর মাইন অপসারণের চেষ্টা। ইরান এই অবরোধকে বেআইনি এবং যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, তারা কোনো ধরনের হুমকি বা চাপিয়ে দেওয়া শর্ত মেনে নিয়ে আলোচনায় বসবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তেহরান অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার বারবার চুক্তি লঙ্ঘন ও সামরিক আগ্রাসনের কারণে আমরা তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছি।
ইসলামাবাদে বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও, ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় এই আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল