পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরিকল্পিত নতুন দফার আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে ইরান এখন পর্যন্ত অটল রয়েছে। ইরানি গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তেহরান এই আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু পূর্বশর্ত পূরণের ওপর জোর দিচ্ছে।
ট্রাম্প গতকালও একই ধরনের বক্তব্যে বলেছিলেন যে, আমেরিকার মধ্যস্থতাকারী দল ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। তবে ইরানের অংশগ্রহণ ছাড়া এই প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
তাসনিমের প্রতিনিধি জানতে পেরেছেন যে, বর্তমানে আলোচনার পথে সবচেয়ে বড় এবং মৌলিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌ-অবরোধ ইস্যুটি। ইরান এই বিষয়টি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারী আজ জানিয়েছেন যে, তিনি এই সমস্যাটি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
নৌ-অবরোধের পাশাপাশি, আমেরিকার পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তাগুলোতে এমন কিছু 'অতিরিক্ত ও অবাস্তব' দাবি করা হয়েছে, যা একটি সফল আলোচনার সম্ভাবনাকে ক্ষীণ করে তুলেছে।
ইরানি প্রতিনিধি দলের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ পর্যন্ত বাস্তবতাকে অস্বীকার করে এবং সামরিক ময়দানে তাদের পরাজয়ের কারণগুলো না বুঝে ভুল হিসাব-নিকাশ নিয়ে আলোচনার টেবিলে আসবে, ততক্ষণ এই আলোচনা কেবল সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।
মৌলিক বাধাগুলো অপসারিত না হওয়া এবং তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তির স্পষ্ট সম্ভাবনা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ইরান এই আমেরিকান থিয়েটারে যোগ দেওয়ার কোনো ভিত্তি দেখছে না।
গণমাধ্যমে এই আলোচনাকে একটি প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করার যে গুঞ্জন রয়েছে, সে বিষয়েও ইরান সজাগ। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও উপযুক্ত শিক্ষা দিতে তারা দ্বিধা করবে না।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল