যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণে ওয়াশিংটনের সাথে একটি যোগাযোগ চ্যানেল খোলার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে, জব্দ করা ৬০০ কোটি (৬ বিলিয়ন) ডলারের একটি অংশ দিয়ে তেহরান তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে বলেও নিশ্চিত করেছে।
বুধবার (১ জুলাই) কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ প্রযুক্তিগত আলোচনার পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এই তথ্য জানান। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় সমঝোতা স্মারকের শর্ত বাস্তবায়ন এবং সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এই আলোচনাকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে আখ্যায়িত করে জানান, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর শিগগিরই পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গত মাসে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তির শর্ত নিয়ে মতবিরোধের জেরে গত সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও, বর্তমান আলোচনার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল ফের শুরু হয়েছে।
জব্দ করা ৬ বিলিয়ন ডলারের ব্যবহার প্রসঙ্গে কাজেম ঘারিবাবাদি জানান, কাতারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে এই তহবিলের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের চাহিদার ভিত্তিতে এই অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করে তেহরানে পাঠানো হবে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে জানিয়েছিলেন, এই অর্থ দিয়ে ইরানকে কেবল মার্কিন পণ্যই কিনতে হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের জন্য সর্বোচ্চ উপকারী খাতেই এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
দোহায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতার প্রদত্ত নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমানে প্রথম যাত্রার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কাজ বেশ ভালোভাবে এগোচ্ছে। আমরা তাদের কঠোর আঘাত করলেও এখন আমাদের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে সামরিক পদক্ষেপে ফিরে না যাওয়ার কোনো শতভাগ নিশ্চয়তা তিনি দিতে পারছেন না। বিষয়টি পুরোপুরি ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন ছাড়া প্রেসিডেন্ট নতুন করে সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধে পাঠাবেন না।
দোহায় মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাথে বৈঠক করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পাকিস্তান ও কাতার তাদের মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার এই ইতিবাচক অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের উদ্বেগ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে বুধবার তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/ আরপিডি