যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপের মুখে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়ার অন্তত ১৩টি দেশ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দেশগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির সরকার পরবর্তীতে কূটনৈতিক মাধ্যমে তেহরানের কাছে তাদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ঊর্ধ্বতন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদেশি প্রতিনিধিদলগুলো যাতে এই স্মরণসভায় যোগ দিতে তেহরান সফর না করে, সেজন্য গত পাঁচ দিন ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি গোপন নির্দেশনা জারি করেন, যা অনুসারে এই জানাজায় অংশ নেওয়াকে অবন্ধুসুলভ আচরণ হিসেবে গণ্য করার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন আরব কূটনীতিকের বরাত দিয়ে তাসনিম আরও জানিয়েছে যে, রুবিও ব্যক্তিগতভাবে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা সেখানকার সরকারগুলোকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, এই অনুষ্ঠানে যোগ দিলে তা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব হুমকি-ধমকি খুব একটা কাজে দেয়নি, কারণ খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, ভারত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, পাকিস্তানসহ শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো আলি খামেনির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ডিবিসি/এফএইচআর