যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক গবেষণাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত এমন অন্তত ১০ জন মার্কিন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে হোয়াইট হাউস। একের পর এক বিজ্ঞানীর রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পারমাণবিক অস্ত্র, মহাকাশ প্রযুক্তি ও উন্নত জ্বালানি গবেষণায় যুক্ত এসব বিজ্ঞানীর হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক মৃত্যু নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ নীরবতার পর অবশেষে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বুধবার (১৫এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই উদ্বেগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিখোঁজ ও মৃত ব্যক্তিদের তালিকায় দেশটির অত্যন্ত সংবেদনশীল বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ গবেষক এবং ঠিকাদাররা রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির সিনিয়র অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার মনিকা জাসিন্টো রেজা, যিনি ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইকিং করার সময় নিখোঁজ হন। এছাড়া কানসাস সিটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি ক্যাম্পাসের সরকারি ঠিকাদার স্টিভেন গার্সিয়া এবং লস অ্যালামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সাবেক কর্মকর্তা অ্যান্থনি শ্যাভেজ যথাক্রমে ২০২৫ সালের আগস্ট ও মে মাসে নিখোঁজ হন। তালিকায় আরও রয়েছেন বিমান বাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল উইলিয়াম "নিল" ম্যাককাসল্যান্ড, যিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রহস্যজনকভাবে নিরুদ্দেশ হয়েছেন।
নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ড এবং মাইকেল ডেভিড হিকসের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণও এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে যখন হোয়াইট হাউস নাসা ও পেন্টাগনকে পারমাণবিক স্পেস রিঅ্যাক্টর তৈরির কাজ দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান প্রতিনিধি এরিক বার্লিসন এফবিআই-এর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি মনে করেন, সংবেদনশীল গবেষণার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের এভাবে নিখোঁজ হওয়া গভীর উদ্বেগের বিষয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন যে, নিখোঁজদের অনেকেই তাদের মোবাইল ফোন বা মানিব্যাগের মতো জরুরি জিনিসপত্র সাথে নেননি। ফলে এটি কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন নাকি জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যুক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত কোনো হুমকি, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
ডিবিসি/এফএইচআর