আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম সূর্য বানাচ্ছেন বিল গেটস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্ল্যাক্সটন এলাকায় দীর্ঘ ছয় দশকের কয়লার ধোঁয়ার ইতিহাস মুছে দিয়ে শুরু হচ্ছে এক নতুন ও বৈপ্লবিক অধ্যায়। ‘বুল রান ফসিল’ নামের পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিমনি দুটি ধ্বংস করে সেখানে এখন তৈরি করা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক ফিউশন রিঅ্যাক্টর, যাকে বিজ্ঞানীরা অভিহিত করছেন ‘কৃত্রিম সূর্য’ হিসেবে।

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের অর্থায়নে পরিচালিত ‘টাইপ ওয়ান এনার্জি’ নামক প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে।

 

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি টেনেসি ভ্যালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে ‘ইনফিনিটি ওয়ান’ নামক এই প্রকল্পের জন্য লাইসেন্স আবেদন জমা দিয়েছিল টাইপ ওয়ান এনার্জি। এটি সফল হলে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম বাণিজ্যিক ফিউশন প্রকল্প হিসেবে নাম লেখাবে। সাধারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরমাণু ভেঙে বা ‘ফিশন’ পদ্ধতিতে শক্তি উৎপন্ন করা হলেও এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে ফিউশন প্রযুক্তি। এটি মূলত সেই প্রক্রিয়া, যা সূর্য ও নক্ষত্ররাজিতে প্রাকৃতিকভাবে শক্তি উৎপন্ন করে। হালকা পরমাণুকে একত্র করার মাধ্যমে নির্গত হওয়া এই বিপুল শক্তিতে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের ঝুঁকি প্রথাগত পদ্ধতির তুলনায় অনেক কম।

 

প্রকল্পটির কারিগরি বিশেষত্ব হলো এর ‘স্টেলারটর’ মডেল। বর্তমানে বিশ্বে প্রচলিত ডোনাট আকৃতির ‘টোমাকাক’ রিঅ্যাক্টরের চেয়ে স্টেলারটরের নকশা অনেক বেশি জটিল ও উন্নত। এখানে হাইড্রোজেন প্লাজমাকে প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়, যা সূর্যের কেন্দ্রের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। এই চরম উত্তপ্ত প্লাজমাকে স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে অতি-শক্তিশালী চৌম্বক কয়েল। স্টেলারটরের বিশেষ প্যাঁচানো নকশা প্লাজমাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সক্ষম, যা ফিউশন প্রযুক্তির একটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে।

 

নিরাপত্তার দিক থেকেও ফিউশন এনার্জি প্রথাগত পারমাণবিক কেন্দ্রের চেয়ে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। ২০২৩ সালে মার্কিন নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ফিউশন রিঅ্যাক্টরগুলোকে প্রচলিত কঠিন নিয়মের বদলে কণা ত্বরক যন্ত্র বা পার্টিকেল এক্সিলারেটরের মতো সহজ নিয়মের আওতায় আনা হবে। এই নীতিনির্ধারণী পরিবর্তনের ফলে টাইপ ওয়ান এনার্জির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযুক্তি বিকাশের পথ আরও সহজ হয়েছে।

 

প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, ২০২৯ সালের মধ্যে ‘ইনফিনিটি ওয়ান’ রিঅ্যাক্টরটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। প্রাথমিক এই প্রকল্পের সফলতার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘ইনফিনিটি টু’ নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। পরিবেশবান্ধব ও অফুরন্ত শক্তির উৎস হিসেবে এই কৃত্রিম সূর্য আগামী দিনে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন